ভিডিও শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০১:০১ পিএম

জরিপে সেরা দশেও নেই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রি

জরিপে সেরা দশেও নেই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রি , ছবি: সংগৃহীত।

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য দেখিয়েছে তারা। টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতেছেন মিডফিল্ডার রদ্রি, সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি এবং গোল্ডেন গ্লাভস উঠেছে গোলরক্ষক উনাই সিমনের হাতে। তবে স্পেনের এই সাফল্যের মাঝেই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে গোল্ডেন বল নিয়ে। অনেকের প্রশ্ন, লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো পারফর্মারদের পেছনে ফেলে রদ্রিকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা কতটা যৌক্তিক? 

রদ্রির অবদান নিয়ে খুব বেশি দ্বিমত নেই। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বল দখল, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দলের মূল ভরসা। ২০২৪ ইউরো জয়ের সময় যেমন স্পেনের সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন, বিশ্বকাপেও একই ভূমিকা পালন করে দলকে দ্বিতীয় বিশ্ব শিরোপা জিতিয়েছেন। পরিসংখ্যানও রদ্রির গুরুত্বের প্রমাণ দেয়। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বলে স্পর্শ করেছেন তিনি। আক্রমণভাগে ফাইনাল থার্ডে পাস দেয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন দ্বিতীয়, সুযোগ তৈরির তালিকায় ছিলেন শীর্ষ ১৫ এর মধ্যে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ট্যাকল করা খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। আক্রমণ ও মাঝমাঠে বল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও ছিলেন সেরাদের একজন। তবে সংখ্যার বাইরেও তরুণ স্পেন দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং কঠিন মুহূর্তে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দক্ষতা তাকে আলাদা করেছে।

তবু বিতর্ক থামছে না। কারণ, টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে অন্য কয়েকজন ফুটবলারের অবস্থান ছিল আরও উজ্জ্বল। স্কাই স্পোর্টসের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের সেরা তিন পারফর্মার হিসেবে রাখা হয়েছে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যামকে। সেখানে রদ্রির অবস্থান ছিল ১৮তম। এমনকি স্পেন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও সামগ্রিক রেটিংয়ে তিনি ছিলেন সপ্তম।

বিস্তারিত পরিসংখ্যানও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের বিশ্লেষণে রদ্রি ১৩টি বিভাগে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিলেও বেলিংহ্যাম ছিলেন ১২টি বিভাগে। অন্যদিকে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনই ১৮টি বিভাগে শীর্ষ দশে ছিলেন। গোল, অ্যাসিস্ট, বড় সুযোগ সৃষ্টি, থ্রু বল এবং আক্রমণভাগে প্রভাব বিস্তারের মতো সূচকে তারা রদ্রির তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। অবশ্য রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যানে তারা পিছিয়ে ছিলেন, যা তাদের পজিশন বিবেচনায় স্বাভাবিক। পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপের সেরা একক পারফরম্যান্সও ছিল মেসির। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিককে সর্বোচ্চ রেটিং দেয়া হয়েছে। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় মেসি কিংবা এমবাপ্পে গোল্ডেন বল পাওয়ার আরও জোরালো দাবিদার ছিলেন।

আরও পড়ুন

এ কারণেই আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন রদ্রি কি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছেন? সমালোচকদের একটি অংশের মতে, নেতৃত্বের যুক্তিও খুব শক্তিশালী নয়। কারণ মেসি, এমবাপ্পে এবং বেলিংহ্যামও নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল খেলোয়াড় হওয়ার বিষয়টিই হয়তো শেষ পর্যন্ত রদ্রির পক্ষে কাজ করেছে।

অন্যদিকে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিয়েও ছিল চমক। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অধিকাংশের ধারণা ছিল, লামিন ইয়ামালই এই পুরস্কার জিতবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার আরেক তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি সবাইকে পেছনে ফেলে এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জরিপে সেরা দশেও নেই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রি

ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানল : সরিয়ে নেয়া হলো সোয়া ২ লাখ মানুষকে

সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন : আইনমন্ত্রী

ইরানকে অস্ত্র না দিতে রাশিয়া-চীনকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বাগেরহাটে ছুরিকাঘাতে আইনজীবীকে হত্যা 

স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী