ভিডিও সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:২১ বিকাল

প্রকৃতির নীরব প্রহরী সুন্দরবন

সুন্দরবনকে ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে এবং আগামী প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া। পরিশেষে বলা যায় সুন্দরবন আমাদের পরিচয় এবং আমাদের অহংকার। এই সবুজ ভূখন্ডকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব। প্রকৃতির সাথে বৈরিতা নয় বরং মৈত্রীর বন্ধন গড়ে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য। এবারের সুন্দরবন দিবস আমাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে দেয় আত্মোপলব্ধির। আমাদের সম্মিলিত শপথ হোক আমরা বন কাটব না এবং বনের কোনো ক্ষতি করব না। সুন্দরবন যদি তার আপন মহিমায় টিকে থাকে তবেই বাংলাদেশ টিকে থাকবে সবুজের সমারোহে। একটি দেশের বনভূমি যেমন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে গণ্য করা হয়, তেমনি দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিবেচনা করা হয়। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় দেশে বনভূমির পরিমাণ কম, তা সত্ত্বেও বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। 

সুন্দরবন শুধু একটি প্রাকৃতিক বনভূমি নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, উপকূলকে রক্ষা করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই সুন্দরবনের গুরুত্ব আবেগ নয় এটি বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও মানবিকভাবে অত্যন্ত যৌক্তিক। সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ঢাল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের ঢেউ যখন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে, তখন সুন্দরবনের ঘন গাছপালা ও শিকড় সেই শক্তিকে অনেকাংশে দুর্বল করে দেয়। গবেষণায় প্রমাণিত, যেসব এলাকায় সুন্দরবনের প্রভাব রয়েছে, সেখানে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়। অর্থাৎ সুন্দরবন না থাকলে হাজারো মানুষ ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ত। সুন্দরবন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। পর্যটনের মাধ্যমেও প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আসে। তাই সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া মানে শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবন ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। তাছাড়াও সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অঞ্চল। এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। নদীর পলি ধরে রেখে ভূমি ক্ষয় রোধ করে এবং সামুদ্রিক ও স্থলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রাণীর অস্তিত্ব সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অবৈধ গাছ কাটা, শিল্পবর্জ্য, তেল দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। এই বন ধ্বংস হলে তার প্রভাব শুধু সুন্দরবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না পুরো দক্ষিণাঞ্চল এমনকি দেশের খাদ্য ও জলবায়ু ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই সুন্দরবন রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয় এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য বন সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে, নদী ও খাল দূষণমুক্ত রাখতে হবে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে হবে এবং উপকূলজুড়ে নতুন ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাতে হবে। মানুষকে সচেতন করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা গড়ে তোলাই টেকসই সমাধান। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন বাঁচানো মানে কেবল একটি বন বাঁচানো নয়- এটি বাংলাদেশকে বাঁচানো। যুক্তি, বিজ্ঞান ও বাস্তবতা সবই বলে, সুন্দরবন আমাদের আজকের নিরাপত্তা এবং আগামী দিনের নিশ্চয়তা। 


লেখক :

আরও পড়ুন

আরবী আক্তার তামান্না

শিক্ষার্থী, ইংরেজি
ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রকৃতির নীরব প্রহরী সুন্দরবন

মঙ্গলবার রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান সৌদি আরবের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একটি পর্যালোচনা

হুমকির সামনে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান : আব্বাস আরাগচি

অস্ট্রেলিয়ায় গেলেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল!

ভারতে রাসায়নিক কারখানায় আগুনে নিহত ৭