ভিডিও শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:৪১ দুপুর

ক্লাস পার্টির নামে বাণিজ্য ও অপচয় বন্ধ হোক

ক্লাস পার্টির নামে বাণিজ্য ও অপচয় বন্ধ হোক, ছবি: সংগৃহীত।

ক্লাস পার্টি যতটা না শিক্ষণীয় তার চেয়ে বেশি আধুনিক ফ্যাশনের একটি অংশ। এটি শিক্ষাকে ব্যয়বহুল ও অর্থনির্ভর করে তুলেছে। যা আগামীতে প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ছড়াবে বলে আশা করি, শিক্ষা কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ক্লাস পার্টি’ নামের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মূল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। আনন্দ ও সহমর্মিতার জায়গা হিসেবে যেটি থাকার কথা ছিল, সেটিই ধীরে ধীরে অর্থনির্ভর ও বৈষম্যমূলক এক চর্চায় পরিণত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশেষ করে বেসরকারি বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে ক্লাস পার্টির জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আদায় প্রায় অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অর্থ প্রদানে অপারগ শিক্ষার্থীরা অনেক সময় মানসিক চাপ, লজ্জা কিংবা অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শিকার হয়। এটি কেবল অমানবিকই নয়, শিক্ষার অন্তর্নিহিত সমতার নীতিরও পরিপন্থী। শিক্ষা যেখানে সামাজিক বিভাজন দূর করার কথা, সেখানে এমন অনুশীলন নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নগরভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস পার্টি আয়োজনের ব্যয় দিন দিন অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে। নামী-দামী রেস্টুরেন্ট বা রিসোর্ট, অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক আয়োজন অনেক অভিভাবকের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপে পড়ে অনেক পরিবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই ব্যয় বহন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। আরও দুঃখজনক হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নীরব সমর্থন বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এই আয়োজনগুলো উৎসাহিত হয়। ফলে শিক্ষা একটি মানবিক প্রক্রিয়া না থেকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ নিতে শুরু করে। শিক্ষার্থী তখন আর কেবল জ্ঞানার্জনের অংশীজন থাকে না; সে পরিণত হয় অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় জড়ানো এক অংশগ্রহণকারীতে। শিক্ষার লক্ষ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়; নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। অথচ ক্লাস পার্টির নামে যখন প্রদর্শন, প্রতিযোগিতা ও ভোগবাদী মানসিকতা উৎসাহিত হয়, তখন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ছোট বয়স থেকেই তারা শিখে নেয় অর্থই সবকিছুর নিয়ামক। বস্তুত ক্লাস পার্টি থেকে শিক্ষামূলক কোনো চর্চায় শিক্ষার্থীরা পায় না। বরং একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লড়াই, রেষারেষি ও আধুনিক ফ্যাশনের প্রয়োজনীয়তায় ক্লাস পার্টির নামে একটি ভোগবাদী নিয়ম চালু করেছে তারা।  

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিমালা ও সামাজিক সচেতনতা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে কোনো ধরনের আয়োজন যেন বাধ্যতামূলক না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী অর্থের কারণে বৈষম্যের শিকার না হয়। স্বল্প ব্যয়ে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আয়োজিত অনুষ্ঠানই হতে পারে গ্রহণযোগ্য বিকল্প। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও অপ্রয়োজনীয় জৌলুশ প্রত্যাখ্যান করে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল অবস্থান নিতে হবে। 

শিক্ষা কখনোই বাজারের নিয়মে পরিচালিত হতে পারে না। ক্লাস পার্টির নামে যদি অর্থকেন্দ্রিকতা ও সামাজিক বিভাজন বাড়ে, তবে তা স্পষ্টতই শিক্ষাবাণিজ্যের একটি রূপ। সময় এসেছে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং শিক্ষাকে তার প্রকৃত মানবিক মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার। শিক্ষা হোক মূল্যবোধের আলোয় উদ্ভাসিত আয়োজনের আড়ম্বর নয়, মানবিকতার চর্চাই হোক শিক্ষাঙ্গনের মূল পরিচয়। ক্লাস পার্টির নামে গড়ে উঠা এইসব অপ-প্রতিযোগিতাকে খুব দ্রুত বন্ধ করতে হবে। নয়তো শিক্ষা বাণিজ্যে আসতে পারে নতুন একটি অর্থনির্ভর বৈষম্যের রূপচিত্র। 

আরও পড়ুন

লেখক

ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়

শিক্ষার্থী,  নওগাঁ সরকারি কলেজ, 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্লাস পার্টির নামে বাণিজ্য ও অপচয় বন্ধ হোক

ভোটে জিতে হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা

তরুণ লেখকদের জন্য বইমেলা কতটা সহায়ক

যারা বোরকা কিনতে বলেছিল, ছবিটা তাদের জন্য: বাঁধন

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

আলোচিত মেঘনা আলম ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৮ ভোট