ভোটে জিতে হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা
মফস্বল ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের কিছু অংশ) বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১,১৮,৫৪৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০,৪৩৪ ভোট।নির্বাচনে জয় লাভের পর আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ এবং তার বেড়ে ওঠার গল্প শেয়ার করেন।
রুমিন ফারহানা জানান, বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসা এবং জয়ের এই পথ তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল তার দলের নেতাকর্মীদের যাত্রা। তিনি বলেন, ‘যদি আজকে আমি জয়ী না হতাম, তাহলে আমাকে হয়তো ঢাকায় ফিরে যেতে হতো এবং আমার পেশায় ফিরে যেতে হতো। কিন্তু আমার কর্মীরা, যারা ১৭ বছর ধরে কষ্ট সহ্য করে কাজ করেছে, তারা কখনো হতাশ হয়নি। আজ তারা সবাই খুশি, এবং আমি জানি, তাদের ভালোবাসার ঋণ শোধ করা কঠিন।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি চেষ্টা হয়েছিল এবং ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে জালিয়াপাড়া কেন্দ্রের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে খেজুর গাছের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলাম এবং ভোট গুনতে গিয়ে কিছু ফলস ভোট পেয়েছি।’
এছাড়া, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যেহেতু আমি দলীয় প্রার্থী নই, যদি আবার এখানে নির্বাচন করতে হয়, তবে আমাকে কাজ করতে হবে। আমার নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে কাজ ছাড়া আর কোনো অপশন নেই।’তিনি জানান, হাঁস প্রতীকের পেছনে একটি বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। ছোটবেলায় তার পরিবার অনেক হাঁস, মোরগ, কবুতর পালন করত, যা তার জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার বড় চাকরি করত, তখন বড় বাড়িতে থাকতাম। পরে ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে আসার পর হাঁস-মুরগি পালন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমার হাঁস-মুরগি রয়েছে, আর অবসর সময় আমি তাদের সাথে কাটাই।’
আরও পড়ুনরুমিন ফারহানা গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদকও ছিলেন।
এছাড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে রুমিন ফারহানা প্রচারণা চালানোর পর বিএনপি সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ নেতাকে বহিষ্কার করে।
মন্তব্য করুন








