ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল

নগর কৃষি: খাদ্য নিরাপত্তার বিকল্প সমাধান

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকও তুমি, সে যে আমার জন্মভুমি। বাঙালির আবেগে মিশে যাওয়া এই লাইনটা নিয়ে একটু গভীরে ভাবলেইতো আসলেই অবাক হবারই কথা। আসলেই কি এমন দেশ আর কোথাও আছে? কেন এমন কথা? মাটিতে একটি বীজ ফেলেই দেখুন, আশ্চর্য হবারই কথা, বিনে যত্নে বেড়ে ওঠে চারা। এদেশের মাটি পানি আবহাওয়া যেন কৃষি আর কৃষকের জন্য এক স্বর্গই বলা চলে। এই দেশটি না থাকলে বোধ হয় কেবল রূপ কথাতেই খুঁজে পাওয়া যেত এমন কিছুর। তাইতো কৃষির সাথে বাংলা আর বাঙালির নিবিড় সম্পর্ক আবহমানকাল থেকেই। বাঙালির সংস্কৃতি থেকে শুরু করে জীবনবোধ সবকিছুতেই তাই কৃষির ছাপ স্পষ্ট। একটা সময় ছিল যখন বাংলার প্রায়ই ৯০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ ছিল কৃষি নির্ভর। এরপর সময় যত পেরিয়েছে ততটাই বদলেছে কৃষির চিত্র। বিশেষ করে বৃটিশ আমলের ধীরে ধীরে শিল্পের প্রভাবে আরো পিছিয়ে পড়েছে কৃষি। কৃষি যতই পিছিয়ে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাও পড়েছে হুমকির মুখে। একসময়ের কৃষি জমিতে এখন গড়ে ওঠেছে শহরাঞ্চল। আর তাই সীমিত যে কৃষি জমি এখনও টিকে আছে তা আমাদের গ্রাম অঞ্চলেই। তবে আমাদের বিপুল খাদ্য চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই সীমিত জমি আর বিপুল খাদ্য চাহিদা মেটানো এখন প্রায়ই অসম্ভব হয়ে ওঠছে। ফলে বেড়েই চলছে বাজারের হাঁসফাঁস। সেই সঙ্গে বেড়েছে খাদ্যে ভেজাল আর হুমকিতে পড়ছে  আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা। সেখানটাতেই আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে তুলনামূলক নতুন শব্দ নগর কৃষি। সত্যিই আশীর্বাদ স্বরূপই নগরকৃষি। নগরকৃষি হলো শহর এলাকায় খাদ্যশষ্য, ফলমূল, শাকসবজি, মসলা, পশু পাখি অথবা মাছ পালন। নগরকৃষি জোগাড় করছে মানুষের খাদ্য চাহিদা সেই সঙ্গে সুযোগ করে দিয়েছে শহরের বাসিন্দাদেরও তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খেতে পারার তৃপ্তি। আমাদের দেশের শহরাঞ্চলগুলোতে এমনিতেই ফাঁকা জায়গার বেশ অভাব। কংক্রিটের শহরগুলোতে যেটুকু ফাঁকা জায়গা আছে সেটাকেই কাজে লাগিয়ে আমরা গড়ে তুলতে পারি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা। আমাদের ছাদ, বারান্দা সহ যেটুকুই ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই ভরিয়ে দিতে পারি সবুজায়ন দিয়ে। আমাদের দেশ যে কৃষি আর কৃষকের জন্য এক স্বর্গরাজ্য তাতো অনস্বীকার্য। কেবল অল্প পরিশ্রমেই যেভাবে আমরা কৃষিতে উন্নতি লাভ করতে পারি তাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে সবুজায়ন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই আমাদের দেশের বন জঙ্গল উজাড় হচ্ছে যা আমাদের জন্য হুমকি স্বরূপ, সেই হুমকি কিছুটা হলেও মোকাবেলা করা যেতে পারে নগরকৃষির মাধ্যমে। এছাড়াও খাদ্যের সাথে সাথে রয়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক। তাই ভেজাল খাদ্যের প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব নগরকৃষির মাধ্যমে। নগরকৃষির এতসব সুবিধার জন্য ধীরে ধীরে বেড়েই যাচ্ছে নগরকৃষির জনপ্রিয়তা। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে-বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে নগরকৃষির অবদান প্রায়ই ১৫-২০ শতাংশ। এছাড়াও নগরকৃষিতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায়ই ৮০০ মিলিয়ন। তবে এত সব সুযোগ সুবিধা থাকলেও নগরকৃষিও মুখোমুখি হচ্ছে বেশ কিছু প্রতিকুলতার। নগরকৃষিতে এমনিতেই জায়গার সংকট সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের স্বল্পতাও রয়েছে। সেই সাথে সরকারি প্রণোদনারও ব্যাপক অভাব রয়েছে। এছাড়াও সঠিক উপায় অবলম্বন না করলে ক্ষতি হতে পারে ছাদের। ইতিমধ্যে আমাদের দেশে নতুন হলেও বেড়ে চলছে ছাদকৃষির জনপ্রিয়তা। নগরকৃষি কেবল খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নয় নগরকৃষি হতে পারে মানুষের মনের খোরাক মেটানোর এক নতুন উপায়ও। শহরের নিঃসঙ্গ জীবনের একঘেয়েমিতা কাটাতেও নগরকৃষি রাখতে  পারে এক সহায়ক ভূমিকা। নগরকৃষি বহুলাংশে যেমন  বাড়িয়ে দিতে পারে আমাদের শহরের সৌন্দর্য, আবহাওয়া অনুকুলে রাখতে সহায়ক তেমনি নগরকৃষি হতে পারে অর্থনৈতিক নতুন দুয়ার। নগরকৃষিতে ভাগ্যের চাকা ঘুরাচ্ছেন অনেকেই। বেকারত্ব ঘুচছে অনেকেরই। ফল ফুল আর সবজিতে ভরিয়ে দিতে পারে নগরকৃষি। আমাদের দেশে তুলনামূলক নতুন হলেও নগরকৃষি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে নগরকৃষি। নগরকৃষির বিভিন্ন দিক দেখে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন নগরকৃষিতে। ঢাকার শহরের ছাদগুলোতে এখন ভরে উঠছে সবুজ গাছপালায়। বিশ্বায়নের এই যুগে শহরাঞ্চল যেভাবে বাড়ছে তাতে নগরকৃষি খুলে দিতে পারে এক বিশাল দুয়ার। নিশ্চিতভাবে নতুন হওয়ায় অবশ্যই আমাদের নগরকৃষিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর তাই নগরকৃষির প্রতিকূলতা কাটিয়ে দরকার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ। নগরকৃষি সংক্রান্ত আমাদের জ্ঞান আমাদের বাড়াতে হবে। গাছ ও গাছের রোগবালাই মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে নিরাপত্তার দিকটাও মাথায় রাখতে হবে। ছাদকৃষিতে বড়গাছ যেন নিরাপত্তা ঝুঁকি না বাড়াতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সার ও গাছের চারার দাম যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেদিকে সরকারি নজরদারি জরুরি। নগর কৃষিতে বেশ কিছু সহায়ক যন্ত্রপাতি দরকার। দরকারি সে সকল যন্ত্রপাতি যাতে সহজলভ্য হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে নগরায়নের এই যুগে নগরকৃষিই হতে পারে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ এর এক বিশাল হাতিয়ার। তাই ব্যপক প্রচারণা চালিয়ে নগর কৃষিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলা দরকার। কেবল তখনই আমাদের কৃষির সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে বহুদূর।  

লেখক :

আরাফাত নাফিজ 

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থী, বিভাগ-লোক প্রশাসন
‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নগর কৃষি: খাদ্য নিরাপত্তার বিকল্প সমাধান

ফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

শেষ হলো ভোটগ্রহণ, অপেক্ষা ফলাফলের

তেঁতুলিয়ায় উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ

গাইবান্ধা-৫ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই

নির্বাচনি ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না: এনসিপি