ভিডিও রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৫৯ দুপুর

তারেক রহমানের হাতেই আগামীর নতুন বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এবং পরবর্তী সময়ে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, অর্থনীতি স্থিতিশীলতা পায় এবং সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন-জনগণের শক্তি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী দলটি সংসদের দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। দলটি এবারই প্রথম বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিলো এবং তারেক রহমান নিজেও এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। তিনি ঢাকা ও বগুড়ায় দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে বিএনপির আগের ঘোষণা অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে অভিনন্দিত হয়েছেন। দীর্ঘ সতের বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তিনি গত ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেছেন এবং ৩০শে ডিসেম্বর তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এখন তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হলো এবং এর ফলে ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার প্রায় দুই দশক পর দলটি আবার ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। 

এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে ছিল। সেই সরকারের অন্যতম অংশীদার এবং দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সাথেই এবার নির্বাচনি লড়াই হয়েছে বিএনপির। নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশের পরই তাদের শপথ ও পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা। ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও সংসদ নির্বাচনের ফল বিএনপি এবার নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এই নির্বাচনে ছিল না দলটির দীর্ঘকালের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ও তার দলের অনেক নেতা ভারতে অবস্থান করছেন। আর দলটির যেসব নেতা দেশে ছিলেন, তাদের প্রায় সবাই গুম, খুন, লুট, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে  গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। বাকিরা পালিয়ে ভারতে আছেন, দলটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ফলে এই নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে বিএনপির লড়াই হয়েছে পুরনো মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে। যদিও দলটি বিএনপির সাথে এ নির্বাচনি লড়াইয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। দীর্ঘ সতের বছর নানা বঞ্চনা ও প্রতিকূলতার মধ্যে কেটেছে তারেক রহমানের সময়। তিনি হারিয়েছেন ভাইকে, বঞ্চিত হয়েছেন মাতৃস্নেহ থেকে, প্রিয় স্বদেশের আলো-ছায়া থেকে। অথচ তিনি বলছেন, আমি হারিয়েছি আমার অগণিত নেতাকর্মীকে, যারা রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে জীবন দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের পরিবার ছেড়ে শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জেলখানার চার দেওয়ালে বন্দি অবস্থায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

গত বছরের মে মাসে লাখো তারুণ্যের এক সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, একটি নির্দিষ্ট বয়স থেকে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও কারিগরি শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। একটি সুন্দর জাতি গঠনে এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কারিগরি জ্ঞান। এ কথাটি ধ্রুব সত্য। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সম্পর্ক কী? সম্পর্ক অবশ্যই আছে। বাস্তবতা হলো, মানুষের যদি নৈতিক শিক্ষা না থাকে, তাহলে তার কোনো শিক্ষাই কাজে আসে না, মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। তারেক রহমান সবার আগে কৃষিভিত্তিক সমাজের কথা বলেছেন। কৃষকের উন্নয়নের কথা বলেছেন। কেননা তিনি খুব ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ।কিন্তু নগরায়ণ,শিল্পকারখানা, ঘর-বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে আমরা দিন দিন আমাদের কৃষিজমি হারিয়ে ফেলছি। তাই দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় কৃষিজমি ও কৃষককে সবার ঊর্ধ্বে গুরুত্ব দিতে হবে।তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, তার দল যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তাহলে দেশের ফসলি কৃষক কিংবা ভূমিহীন কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করবেন, যে কার্ডে কৃষকের জমির দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি বর্গাচাষি ও ভূমিহীন কৃষক আছে, যারা বছরে একাধিক ফসল ফলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষিজমিই অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে কৃষককে একটি ফলনের সম্পূর্ণ খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করা হবে। সত্যি সত্যিই এ ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটলে বদলে যাবে দেশ। কৃষকের পাশাপাশি তিনি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বলেছেন, যারা সবসময় সুবিধাবঞ্চিত থাকে, কাজের সুযোগ-সুবিধা কম পায়। এরকম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পঞ্চাশ লাখ কার্ড বিতরণ করা হবে। 

এ কার্ডের অংশীদার হবে পরিবারের নারীপ্রধান একজন ব্যক্তি। এ কার্ড প্রদানের মাধ্যমে একটি পরিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কিংবা নগদ অর্থ পাবে, যার মাধ্যমে ওই পরিবারের নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটবে। সমৃদ্ধশীল একটি দেশ তো তখনই গড়া সম্ভব, যখন দেশের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সমানভাবে দেশ গঠনে অংশীদারত্ব থাকে। এক শ্রেণি এগিয়ে গেল এবং আরেকটি শ্রেণি পিছিয়ে থাকলে সে দেশের সমৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটবেই। তাই তারেক রহমান দেশ গঠনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও তার ভাবনায় রেখেছেন। তরুণ সমাজকে যদি প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং যদি দক্ষ উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে এ তরুণরাই আগামীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যের সুযোগ পেতে পারে। এবং তরুণদের উৎসাহিত করে তাদের স্বপ্নটাকে অনেক দূরের লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এমন উদ্যোগের কথাও বলেছেন তারেক রহমান।স্বাধীনতা- পরবর্তী সময়ে অনেক শাসকই এ দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি। কারণ সেখানে সততা ও সাহসের অনুপস্থিতি ছিল। দেশকে বদলে দিতে সত্যিকার অর্থেই নেতাকে কিংবা মানুষকে সাহসী হতে হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অস্ত্র ছিল সাহস। পাকিস্তানি সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো আমাদের তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না। শুধু বাঙালির সাহসের কারণেই সবাই জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত যে স্বাধীন মাতৃভূমি আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছি, তা পরবর্তীকালে আমরা এগিয়ে নিতে পারিনি শুধু সততার অভাবে।

আরও পড়ুন

একটি স্বনির্ভর দেশ গঠনে শুধু মানুষ নয়, পাশাপাশি সেই ভূ-খন্ডের অন্যান্য প্রাণ-প্রকৃতিরও গুরুত্ব রয়েছে। অর্থাৎ একটি দেশ শুধু মানুষের দ্বারাই পরিচালিত হয় না, সেখানে গাছপালা, নদ-নদী অন্যান্য প্রাণ-প্রকৃতিরও বিশেষ ভূমিকা থাকে। এ সুদূরপ্রসারী চিন্তাই হয়তো হতে পারে নতুন বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর কাছে আরও ইতিবাচকরূপে পরিচিত করানোর প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যরকম এক স্মরণীয় দিন ছিল চব্বিশের ৫ আগস্ট। দীর্ঘদিনের দমননীতি, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। এদিনও আবার প্রমাণিত হলো-যখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না। তরুণদের রক্ত, ত্যাগ ও অবদানের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে অগ্রসর হয়। আজকের দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত ও আশার প্রতীক তারেক রহমান। তার ভিশন ২০৩০ কেবল একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন রূপরেখা। যেখানে রয়েছে-সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানজনক বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই রচিত হতে পারে নতুন কোনো ইতিহাস, যে ইতিহাসের পাতায় পাতায় একদল তরুণ বাংলাদেশের পতাকাকে সারা বিশ্বের কাছে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরবে।

লেখক:
 রায়হান আহমেদ তপাদার
গবেষক ও কলাম লেখক
 যুক্তরাজ্য 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের হাতেই আগামীর নতুন বাংলাদেশ

হিটলারের মতো পুতিনকে ছাড় দিলে, তা শান্তি আনবে না : জেলেনস্কি

নাইজেরিয়ার তিন গ্রামে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৩২

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শপথ : আইন উপদেষ্টা

রংপুরে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও বিএনপি’র

ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চাইলেন রেজা পাহলভি