বগুড়ার সোনাতলায় পুরোদমে ইরি-বোরো ধান লাগানো শুরু : শ্রমিক সংকট
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় চলতি বছর ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি বিঘা জমি রোপন করতে কৃষককে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ গুন অর্থ দিয়েও কাঙ্খিত শ্রমিক মেলাতে পারছেন না কৃষক। তবে পুরো উপজেলা জুড়ে জমি তৈরির জোর প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৩শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ১৩ হাজার ১২০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে এবার বেশি ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।
ঝড়-বৃষ্টির আশংকায় আগে ভাগেই ওই উপজেলার কৃষকেরা ধান রোপন শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমিতে ধান রোপনের কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বগুড়ার সোনাতলায় প্রায় ৪ হাজার ৩২২ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, চলতি বছর ওই উপজেলার কৃষকেরা কাঠালী ও হাইব্রীড জাতের ধানের পাশাপাশি ব্রি ধান ২৬, ২৮, ৮৮, ১০৩, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪ জাতের ধান রোপন করছেন বেশি। উপজেলার বালুুুুুুুুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আটকড়িয়া, ধর্মকুল, রশিদপুর, পাতিলাকুড়া, দিগদাইড় ইউনিয়নের মুলবাড়ি, ফাজিলপুর, মহিচরণ, কাতলাহার, চিল্লিপাড়া, পাঠানপাড়া, সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর, রানীরপাড়া, মধুপুর ইউনিয়নের হরিখালি, গাড়ামারা, শালিখা, পাকুল্যা ইউনিয়নের হাঁসরাজ, উত্তর করমজা, সাতবেকী, মোনারপটল, নিশ্চিন্তপুর, শ্যামপুর, হুয়াকুয়া এলাকায় কৃষককে কোমর বেঁধে ইরি-বোরো চাষের জন্য জমি তৈরি ও রোপন করতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুনপ্রতি বিঘা জমি ২ হাজার টাকা থেকে ২২শ’ টাকা দরে চুক্তিতে জমি রোপন করছে কৃষক। এ বিষয়ে কামারপাড়া গ্রামের কৃষক গোলাম সোবহানী বুলবুল বলেন, এবার তিনি ৫০ বিঘা জমিতে ইরি ধান রোপন করেছেন। জনপ্রতি ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করতে হয়েছে। এছাড়াও বিঘা চুক্তিতে ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা লেগেছে।
ফাজিলপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার তিনি ২ হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে ৭ বিঘা জমি রোপন করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় দিনদিন ফসলী জমির পরিমান কমে যাচ্ছে।
অল্প জমি থেকে কৃষক বেশি ফসল উৎপন্ন করতে অধিক ফলনশীল জাতের ধান বেছে নিয়েছেন। তবে চলতি বছর ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ৩ গুন মজুরী দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করে ধান রোপন করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বগুড়ার সোনাতলায় পুরোদমে ইরি-বোরো লাগানো শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন








