হাজতখানায় দুই আওয়ামী লীগ নেতার ভূরিভোজের আয়োজন
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা। এই হাজতখানায় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দুই আওয়ামী লীগ নেতার ভূরিভোজের আয়োজনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের পাঁচ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
বদলি হওয়া পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং তিন কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম। তাদের জেলার হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের সহযোগিতায় হাজতখানায় দুই আসামির ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। এই আসামিরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ জ ম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আ জ ম পাশার মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরীর সঙ্গে ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিনের বিয়ে হয় গত ৩০ ডিসেম্বর। তবে আ জমপাশা ও ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় আদালতে হাজিরার দিনে হাজতখানায় দুজনের ‘বেয়াইখানার’ আয়োজন করা হয়। পরে ভূরিভোজের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
যে হাজতখানায় ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়, সেটি নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূরিভোজের সময় আসামি আজম পাশা ও ছাইফ উদ্দিনের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর মধ্যে আজম পাশার স্ত্রী খোদেজা আক্তার, মেয়ে ফালিহা আজম এবং ছাইফ উদ্দিনের ছেলে ছাইম উদ্দিনকে ভিডিতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন আরও এক যুবক।
আরও পড়ুনপুলিশ জানায়, হাজতখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে ‘বেয়াইখানা’ আয়োজনের ঘটনা জানার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ। কমিটিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রধান করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম আজ (বুধবার) শুরু হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান জানান, তিনি আজ আদালতে গিয়ে ঘটনাটি শুনেছেন। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এভাবে হাজতে আসামিদের খাবার খাওয়ানো গুরুতর অন্যায়। আদালতের পুলিশ পরিদর্শকও এর দায় এড়াতে পারেন না।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1768991355.jpg)

_medium_1768988885.jpg)
_medium_1768987431.jpg)
_medium_1768986918.jpg)
_medium_1768986445.jpg)


