নাটোরের গুরুদাসপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ৩০ নম্বর সোনাবাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান। ভবনের ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। সামান্য বৃষ্টিতেও শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন পরিবেশে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
জানা যায়, ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হয় ২০০১ সালে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় মাত্র ২৩ বছরেই ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ে আহত হয় কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে বিম ও পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়াল ও ছাদে ধরেছে ফাটল। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান করতে হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে ৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৫ জন। এছাড়াও ২০২৩ সালের মে মাস থেকে প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে এখানকার শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন ভয়ে ক্লাস করতে হয় তাদের। যে কোনো সময় ছাদ বা পলেস্তারা খসে পড়তে পারে। এদিকে ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে দ্বিধায় ভোগেন বাবা মায়েরা। এসময় অতি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও শূন্যপদে নিয়োগের দাবি জানান তারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মজনুর রহমান বলেন, নিম্নমানের কাজের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনকিছুদিন আগে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান ভেঙে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জোনাব আলী জানান, উপজেলা জুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু স্থানে সংস্কার কাজ করা হবে, আবার কোথাও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন