ভিডিও শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:৫৬ এএম

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে, ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে, ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

কেউ মেরামত করছে নৌকা। কেউ বুনছে জাল। কেউ করছে নৌকা ধোয়া-মোছার কাজ। বড় বড় ফিশিং ট্রলারগুলো নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে নিচ্ছেন ট্রলারে। অনেকদিন পর সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সুনশান নীরব ঘাটগুলো হয়ে উঠছে কর্মচঞ্চল। সাগরে মাছধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ (৩ নভেম্বর) রোববার মধ্যরাত থেকে। রাত ১২টার পর সবাই নদীতে নেমে পড়বেন মাছ শিকারে। সবশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে নোয়াখালী হাতিয়ার প্রায় একলাখ জেলে।

হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলা উদ্দিন জানান, হাতিয়াতে ছোট বড় ২০টি ঘাটে প্রায় ১০ হাজার জেলে নৌকা রয়েছে। এসব নৌকায় ১০ জন করে হলেও একলাখ লোক এই জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত। মা ইলিশ রক্ষায় গত ২২ দিন এসব জেলেরা নদীতে না গিয়ে বেকার সময় পার করছে। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন এসব জেলেরা। এতে জেলে পল্লীতে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ। ঘাটে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

সরেজমিনে সকাল থেকে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে যাওয়ার সবশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে খালের মধ্যে ইঞ্জিন চালু করে ট্রলার এদিক সেদিক চালিয়ে পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। বড় বড় ফিশিং ট্রলারগুলো আইস নিয়ে নিচ্ছেন।

সূর্যমুখী ঘাটের কয়েকজন জেলে জানান, গত ২২ দিন বেকার ছিলেন তারা। তাদের আয়-উপার্জন বন্ধ ছিল। কেউ কেউ অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়লেও অনেকে নিজেদের নৌকা, জাল মেরামতে সময় কাটাচ্ছেন। রাত ১২টার সবাই নদীতে নামবেন মাছ শিকারে। এ বছর মৌসুমের প্রথম থেকে ভালো মাছ পাওয়া যায়নি। অনেক জেলে নৌকা এখনো আর্থিকভাবে ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে মাছ পাওয়া না গেলে তাদেরকে পথে বসতে হবে।

আরও পড়ুন

উপজেলার কাজির বাজার ঘাটের জেলে নাজিম উদ্দিন জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সরকারিভাবে দেওয়া ২৫ কেজি চাল পেয়েছেন। বেকার ছিলেন ২২ দিন, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ২৫ কেজি চাল। ৫ সদস্যের পরিবারে নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস কিনতে তাকে অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়েছে।

হাতিয়া ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ উদ্দিন জানান, হাতিয়াতে গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করার মতো ট্রলার রয়েছে ২ শতাধিক। এসব ট্রলারে ২০ জন করে ৪ হাজার জেলে রয়েছে। গত ২২ দিন এসব জেলের পরিবারের ভরণ পোষণ ট্রলার মালিকদের করতে হয়েছে। এ বছর ট্রলার মালিকরাও আর্থিক লাভ এখনো দেখতে পায়নি। তাতে নিষেধাজ্ঞার পরও যেন জেলেরা সাগরে যেতে সম্মত থাকে তাই তাদের পরিবারের ব্যয় ট্রলার মালিককে বহন করতে হয়েছে। সরকারিভাবে যে চাল দেওয়া হয় তা জেলেদের কোনোভাবে পোষায় না। অনেকে তাও পান না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি যাচ্ছেন এরদোয়ান

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক : আইনমন্ত্রী

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী

ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

পিএসসিতে একসঙ্গে চার নতুন সদস্য নিয়োগ

বনানীতে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি, আওয়ামী লীগ-সহযোগী সংগঠনের ৭ জন আটক