ভিডিও বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৯ পিএম

বগুড়ার সোনাতলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান  রাখছেন  নারী শ্রমিকরা 

বগুড়ার সোনাতলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান  রাখছেন  নারী শ্রমিকরা 

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : সংসারের অভাব-অনটন আর বাড়তি আয়ের প্রয়োজন-এই দুইয়ের টানে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গ্রামীণ নারীরা এখন ঘরের চার দেয়ালের বাইরে কাজ করছেন। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে ফসল তোলা, বাছাই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন মৌসুমি কাজে যুক্ত হয়ে তারা পরিবারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ফলে দিন দিন বাড়ছে নারী শ্রমিকের কদর।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার পাতিলাকুড়া, গনসারপাড়া, শেখাহাতী, টিওরপাড়া, ধর্মকূল, রশীদপুর, নামাজখালী, ভিকনের পাড়া, জন্তিয়ার পাড়া, দাউদিয়া পাড়া, মহেশপাড়া, পূর্ব তেকানী, খাটিয়ামারীসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও সমানতালে কাজ করছেন। ধান রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, পাট কাটা, ফসল শুকানো, বাছাই এবং সংরক্ষণের মতো কাজে নারীদের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক দৃশ্য।

স্থানীয়রা বলেন, কৃষিকাজে নারী শ্রমিকরা যত্নশীল ও পরিশ্রমী। বিশেষ করে ফসল বাছাই, ধান পরিষ্কার, বীজ সংরক্ষণসহ সূক্ষ্ম কাজগুলোতে নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বেশি। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম পারিশ্রমিকে কাজ করায় অনেক কৃষক তাদের ওপর নির্ভর করছেন।

ফলে মৌসুমি কৃষিকাজের সময় নারী শ্রমিকদের চাহিদা বেড়ে যায়। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুরুষ শ্রমিককে দৈনিক ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মজুরি দিতে হয়। অপরদিকে নারী শ্রমিকদের ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দিলেই ওরা খুশিতে কাজ করে।

নিপা রানী নামের এক নারী শ্রমিক বলেন, সংসারে স্বামী একা আয় করে পরিবারের সব খরচ চালাতে পারেন না। তাই নিজেরাও কাজ করি। কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারি।

কৃষ্ণা রানী নামের আরেক নারী বলেন, তাদের সংসারে ৬ সদস্য। সড়ক দুর্ঘটনায় বছর দুয়েক আগে স্বামী মারা গেছে। সংসার নামের ঘানি টানতে শ্রমিকের পেশায় পা বাড়াতে হয়েছে। দৈনিক ৪শ’ টাকা মজুরিতে কাজ করে কোনরকমে ছেলে-মেয়ে নিয়ে দিনাতিপাত করছি।

আরও পড়ুন

আরেক নারী শ্রমিক জানান, আগে গ্রামের নারীরা কাজ করতে বাইরে যেতে সংকোচবোধ করতেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সংসারের পাশাপাশি নিজেরাও আয় করছেন। এতে পরিবারে তাদের গুরুত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বেড়েছে।

আলম নামের এক কৃষক বলেন, কৃষিতে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে নারী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ধান ও পাট কাটা, ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে নারী শ্রমিকদের উপস্থিতি কৃষকদের কাজ অনেকটা সহজ করে দেয়। ফলে কৃষিকাজের ব্যস্ত মৌসুমে নারী শ্রমিকদের চাহিদা দ্রুত বাড়ে।

তবে কিছু নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, পুরুষ ও নারী শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে অনেক সময় বৈষম্য দেখা যায়। একই ধরনের শ্রম দেওয়ার পরও নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান। কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং বিশ্রামের সুযোগ নিয়েও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর শ্রমের অবদান অনেক বড় হলেও তা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ দেওয়া হলে কৃষিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান  রাখছেন  নারী শ্রমিকরা 

গাইবান্ধার সাঘাটায় পুকুর ঘেঁষে বিদ্যালয় ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা 

বগুড়ায় পলিথিন ব্যাগের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার : সামন্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, কমছে জমির উর্বরতা

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পাবনার চাটমোহরে উন্নয়ন বঞ্চিত নবীন গ্রামের ৪শ’ পরিবার

ঢাকার মঞ্চে আসছে পাওলো কোয়েলহোর অমর সৃষ্টি ‘দ্য আলকেমিস্ট’