ভিডিও রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০২:০৩ পিএম

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ, ছবি: সংগৃহীত।

করতোয়া বিনোদন: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ, ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি মারা যান।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ সাহিত্যনুরাগী মানুষ ছিলেন।

তার বাবা চাকরি সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন বিধায় হুমায়ূন আহমেদ দেশের বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের কিশোরী মোহন পাঠশালায় (বর্তমান কিশোরী মোহন (বালক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। সেখানে তিনি ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সালে তিনি বগুড়া জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে তিনি এই বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তিনি পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ৫৬৪ নং কক্ষে তার ছাত্রজীবন অতিবাহিত করেন।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্ম- উপন্যাস: শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া, লীলাবতী, কবি, বাদশাহ নামদার, ময়ূরাক্ষী, দেয়াল, অপেক্ষা, আমার আছে জল, প্রিয়তমেষু, সমুদ্র বিলাস, অয়োময়, দুই দুয়ারী, নীল অপরাজিতা, জল জোছনা, নবনী, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, ইস্টিশন, মীরার গ্রামের বাড়ী ইত্যাদি।

তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’ ধারাবাহিক নাটকগুলো। এছাড়া তিনি নিজে নির্মাণ করেছেন ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘সেদিন চৈত্র মাস’, ‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘হাবলঙ্গের বাজারে’, ‘তারা তিন জন’, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’সহ অনেক দর্শকপ্রিয় নাটক। 

আরও পড়ুন

তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, শ্যামল ছায়া, ঘেটু পুত্র কমলা, চন্দ্রকথা। ১৯৯২ সালের শঙ্খনীল কারাগার চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সংখ্যায় বেশী না হলেও তার রচিত গান, একটা ছিল সোনার কন্যা, যদি মন কাঁদে, আমার আছে জল, নদীর নাম ময়ূরাক্ষী, ও আমার রসিক বন্ধু রে, ও আমার উড়াল পঙ্খী রে, আমার ভাঙ্গা ঘরের ভাঙ্গা চালা, কন্যা নাচিল রে, বাজে বংশী, চান্নি পসরে কে আমায় স্মরণ করে, চান্নি পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয় গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়।

হুমায়ুন আহমেদ বহুমাত্রিক সৃষ্টির জন্য নানা পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক, বাচসাস পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসুদন পদক, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ইত্যাদি।

মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পাঠকের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অটুট। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে সেখানে ভক্ত, পাঠক, লেখক, নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীরা সমবেত হয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণা ও তাঁর রচনা পাঠে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে স্মরণ করছেন অসংখ্য অনুরাগী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ

প্রসিকিউশনের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন, হাসিনা-আজিজসহ আসামি ৪১

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানালেন নেতানিয়াহু

দুই দিনের সফরে ঢাকায় আইএলও মহাপরিচালক

আজ রাজধানীতে মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা