সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ আবেদুর রহমান সিকদার
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ আবেদুর রহমান সিকদার। আজ (১৬ জুলাই ২০২৬) ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান এর সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন এবং ব্যাংকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাঁকে আগামী ৩ বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ প্রদান করে।
প্রায় তিন দশকের সমৃদ্ধ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার অধিকারী আবেদুর রহমান সিকদার এর আগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে যোগদানের পর তিনি রিটেইল ব্যাংকিং, এসএমই ব্যাংকিং, লায়াবিলিটি বিজনেস, কার্ডস, ই-ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ব্রাঞ্চ অপারেশনস এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা, অপারেশনাল উৎকর্ষ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।
বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সম্প্রসারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর সারাদেশে জনপ্রিয় করতে নেক্সাসপে ও রকেট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যকর অবদান রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে নেক্সাসপে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও উদ্ভাবনী ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপে পরিণত হয়।
আবেদুর রহমান সিকদার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন উত্তরা ব্যাংক পিএলসিতে। পরবর্তীতে তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসিতে যোগদান করেন এবং পরে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে ব্যাংকটির যাত্রার শুরু থেকেই যুক্ত হন। ব্র্যাক ব্যাংকে দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকিং অপারেশনস, ট্রেজারি ও রেমিট্যান্স কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশে এসএমই ব্যাংকিং সেবা বিকাশ ও সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক, ক্লাস্টার হেড এবং রিটেইল ব্যাংকিং, ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং, অল্টারনেটিভ ব্যাংকিং, মার্কেটিং অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, প্রিমিয়াম ব্যাংকিং এবং কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধান হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি শ্রীলঙ্কার ব্র্যাক লংকা ফাইন্যান্স পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, সুশাসন এবং অপারেশনাল উৎকর্ষতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
আরও পড়ুনদীর্ঘ কর্মজীবনে আবেদুর রহমান সিকদার করপোরেট সুশাসন, ব্যবসা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মদক্ষতাভিত্তিক সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধান বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা দেশের ব্যাংকিং খাতে বিশেষভাবে সমাদৃত।
আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গভর্নমেন্ট স্টাডিজ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং এবং ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। নেতৃত্ব, ব্যাংকিং, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে দেশ-বিদেশে তিনি অসংখ্য পেশাগত প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সফরের অভিজ্ঞতা তাঁর বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
যোগ্যতার স্বীকৃতি স্বরূপ মোঃ আবেদুর রহমান সিকদার ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক থেকে চেয়ারম্যান’স এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড, ইনটেগ্রিটি অ্যাওয়ার্ড এবং বেস্ট ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
মন্তব্য করুন









