আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়াইয়ের ইঙ্গিত সুইস কোচের
স্পোর্টস ডেস্ক : প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪—৩ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামীকাল রোববার সকালে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে রেড ক্রস জার্সিধারীরা।
২০২১ সালে সুইসদের দায়িত্ব নেওয়া মুরাত ইয়াকিনের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল কাতার বিশ্বকাপ। দলকে নকআউট পর্বে নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন সাবেক এই ফেনারবাচ ডিফেন্ডার। পঞ্চাশ পেরোনো এই কোচের অধীনে সুইজারল্যান্ড বড় আসরগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করছে। ২০২৪—এর ইউরো আসরে সুইজারল্যান্ড বড় অঘটন ঘটানোর খুব কাছাকাছি ছিল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ওই ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৫—৩ ব্যবধানে হেরে যায় আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ছোট দেশটি।
তবে ইউরো আসরে দলের সেই পারফরম্যান্স মুরাত ইয়াকিনকে দৃঢ়বিশ্বাস এনে দেয় যে সুইজারল্যান্ড বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলার সক্ষমতা রাখে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত ইউরো আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ প্রসঙ্গে ইয়াকিন বলেন, শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা কেবল সমানে সমান লড়াই—ই করিনি, বরং মাঠের খেলায় আমরাই ছিলাম শ্রেয়তর দল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শেষ পর্যন্ত ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। সুইজারল্যান্ডের বর্তমান দলে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব গুণ এবং দক্ষতার এক চমৎকার সংমিশ্রণ রয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে খেলছেন। ৫১ বছর বয়সী ইয়াকিন ফিফাকে বলেন, আমরা একটি অত্যন্ত সুসংহত দল এবং বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা একসঙ্গে আছি। আমরা একে অন্যের খুব ঘনিষ্ঠ এবং ফুটবল খেলাটা উপভোগ করি।
আরও পড়ুনমুরাত ইয়াকিনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুইজারল্যান্ড অন্যতম ধারাবাহিক একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। দলের সাফল্যের রহস্য খোলাসা করে সুইস কোচ বলেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে খেলি, তবে একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেও খেলি। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে আমাদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে আমাদের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি কতটা ভালো এবং দলে কতটা মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের কথা যদি বলি, আমাদের দলটি এখন এতটাই অভিজ্ঞ যে আমরা যে কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করতে পারি। প্রতিপক্ষও আমাদের সমীহের চোখে দেখে।
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা খুব বেশি নয়। আবার বিশ্বের অনেক দেশের মতো ফুটবলের পেছনে তাদের বিনিয়োগও অঢেল নয়। তাহলে কোন বিষয়টি রেড ক্রস জার্সিধারীদের বাড়তি সুবিধা দেয়। এ প্রসঙ্গে কোচ বলেন, হয়তো বড় দেশগুলোর মতো আমাদের ওপর ভক্ত বা সমর্থকদের বিপুল প্রত্যাশার তীব্র মানসিক চাপ থাকে না।
মন্তব্য করুন









