ভিডিও শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:১৩ পিএম

পরীমণিকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক ছিল না : র‌্যাব’র সাবেক গোয়েন্দা প্রধান

পরীমণিকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক ছিল না : র‌্যাব’র সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, ছবি: সংগৃহীত।

বিনোদন ডেস্ক : ২০২১ সালে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন র‌্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম। 

তিনি দাবি করেছেন, পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আগে তিনি নিজেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং পরে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ৭ জুলাই উপস্থাপিকা শারমিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রকাশিত একটি অনলাইন টকশোতে পরীমণি প্রসঙ্গে কথা বলেন খাইরুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশেই পরীমণিকে গ্রেফতারের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

খাইরুল ইসলাম বলেন, পরীমণির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি বলেন, ‘নায়িকা পরীমণি ব্যক্তিগত জীবনে কী করেন না করেন, তা নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি মদ খান কি না, কী করেন, বাসায় কী আছে না আছেÑএসব জানারও আমার প্রয়োজন ছিল না।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি বাসায় ফেরার পথে ছিলেন। তখন তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক তাকে ফোন করে জানান, পরীমণিকে গ্রেফতারের নির্দেশ এসেছে এবং বিষয়টি কার্যকর করতে হবে। খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বললাম, স্যার, পরীমণিকে কেন ধরতে হবে? তার অপরাধটা কী? অপরাধের কারণে তাকে ধরা হবে আসলে? কোনো নির্দিষ্ট মামলা আছে?’ জবাবে তাকে বলা হয়েছিল, পরীমণির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি অনেককে ব্ল্যাকমেইল করেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলার বিষয় তখন তাকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, পরে এডিজি অপারেশনসের নেতৃত্বে একটি টিম পরীমণির বাসার দিকে যায়। সেই সময় পথে যেতে যেতে পরীমণির করা একটি লাইভ ভিডিও দেখেন তিনি, যেখানে অভিনেত্রী তার বাসায় কারা যেন হামলা করছে বলে অভিযোগ করছিলেন। খাইরুল ইসলাম বলেন, এরপর তিনি নিজের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই টিমটি সেখানে গেছে।
তার দাবি, কিছু সময় পর র‌্যাব মহাপরিচালক তাকে আবার ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। তখন তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘স্যার, এই অভিযান কি আসলে আমার যাওয়ার মতো ছিল? গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে এই অভিযানে যাওয়া কি প্রয়োজন ছিল?’ খাইরুল ইসলাম বলেন, তাকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ও সাংবাদিক উপস্থিত হয়েছেন, পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি সেখানে যান। ঘটনাস্থলের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, ‘একটা বাজার অবস্থা’ তৈরি হয়েছিল। পরে পরীমণিকে সেখান থেকে সরিয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।

খাইরুল ইসলামের দাবি, পরীমণির বাসায় কিছু খালি মদের বোতল পাওয়া গিয়েছিল। এরপর তিনি আবারও তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালকের কাছে জানতে চান, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী। তিনি বলেন, ‘আমি ফোন দিয়ে বলেছি, স্যার, যারা মামলা করবেন বলছেন, যারা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেছেন, তারা কি তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন? তা না হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী?’ তার দাবি, তখন তাকে বলা হয়, অভিযোগ হলো পরীমণি বাসায় মদ রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মদ রাখার জন্য অনেকেরই বৈধ অনুমতি থাকে। কারও ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন

পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পরীমণিকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। সেখানে তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাইরুল ইসলামের দাবি, ফরেনসিক পরীক্ষায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, রাতের দিকে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও সেই তথ্য জানতে আগ্রহ দেখান। তবে তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত তথ্য অন্য সংস্থার সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়। যদি আদালতের প্রয়োজন হয়, আদালতে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অন্য সংস্থার সঙ্গে এটি ভাগ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল।’

খাইরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, পরে তিনি তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এই অভিযান কেন করা হয়েছিল। তখন তাকে বলা হয়, পরীমণি ঊর্ধ্বতন মহলের অনেককে বিরক্ত করছিলেন এবং অনেককে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। তার ভাষ্য, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, ঊর্ধ্বতন মহলের অনেককে তিনি বিরক্ত করছেন, অনেকে বলছেন তিনি ব্ল্যাকমেইল করছেন। সেটি প্রতিরোধ করা দরকার ছিল।’ তবে পুরো ঘটনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এখনও বলব, এটি যৌক্তিক ছিল না। আমি আবারও বলছি, এটি যৌক্তিক ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, কারও বাসায় মদ থাকলেই তাকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক নয়। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে বৈধ অনুমতি বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিষয় থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ২৮ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরীমণিকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক ছিল না : র‌্যাব’র সাবেক গোয়েন্দা প্রধান

জামিনে বেরিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা

বগুড়া মহানগরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪

কক্সবাজারে ঢাকাগামী স্লিপার বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, হেলপার আটক

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননে সাময়িক অভিযান স্থগিতের নির্দেশ ইসরায়েলের

নিজের নাম থেকে বাবার পদবি মুছে দিলো নেতানিয়াহুর ছেলে