ভিডিও রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:১১ এএম

রংপুরের পীরগঞ্জে ২০ বছর ধরে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে দশ সহস্রাধিক মানুষ

রংপুরের পীরগঞ্জে ২০ বছর ধরে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে দশ সহস্রাধিক মানুষ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জে পাঁচগাছি ইউনিয়নে বিশ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে একতার বাজার প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫ শতাধিক পরিবার পানি বন্দিসহ ১০ সহস্রাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

প্রতি বছর ওই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ, সিট জাহাঙ্গীরাবাদ, পাঁছগাছি, বিরাহিমপুর, মোজাফ্ফরপুর, আমোদপুর, সাহাপুর, নাইয়ার বাজার, একতার বাজার ও নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দারা দুভোর্গে পড়লেও সরকারিভাবে দুর্ভোগ লাঘবে আজও কোন যথাযথ পদক্ষেপ গৃহিত হয়নি।

এছাড়াও ওই এলাকার ১২শ’ একর জমির ফসল প্রতি মওসুমে নষ্ট হচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় কালভার্ট ও পাইপ লাইনের মুখে বসতবাড়ি এবং দোকান নির্মাণ করায় কয়েকটি গ্রামের শতশত পরিবার পানিবন্দিসহ হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে পাঁছগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ থেকে একতার বাজার, একতার বাজার থেকে সাদুল্লাহপুরের ছান্দিয়াপুর, একতার বাজার থেকে মিঠাপুকুরের পদ্দহার সড়ক নির্মিত হয়। তিনটি সড়কের মেলুবন্ধন তিন মাথায় ‘একতার বাজার’ গড়ে ওঠে। এদিকে একতার বাজার থেকে মাঠের বাজার হয়ে পাঁচগাছি দিয়ে আরেকটি সড়ক আবারও একতার বাজারে মিলিত হয়।

ফলে একাতার বাজারে গড়ে ওঠে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেন। ছান্দিয়াপুর থেকে পদ্দহার ভায়া একতার বাজার ও মাঠের বাজার সড়কে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি কালভার্ট ও একটি পানি নিস্কাশনে পাইপ লাইন ছিল। যা দিয়ে ভেলামারি বিল ও বামনীর বিলের অতিরিক্ত পানি নিস্কাশন হতো।

আরও পড়ুন

এদিকে পাঁচগাছি উত্তর পাড়ার সাগর চৌকিদার পাইপ লাইনের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি গড়ে তোলেন। একই গ্রামের মধ্যপাড়ায় পিন্টু মন্ডলের বাড়ির পাশের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি গড়ে ওঠে। এদিকে জাহাঙ্গীরাবাদের মধু মেম্বারের বাড়ির পাশের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি ও একাতার বাজারের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দোকান নির্মাণ করা হয়।

ফলে ছান্দিয়াপুর থেকে পদ্দহার ভায়া একতার বাজার সড়কের পুর্বদিকে ভেলামারির বিলের পানি ও পশ্চিমদিকে বামনির বিলের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই বিলের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মওসুমে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে জলাবদ্ধতায় ৮টি গ্রামের ১০ সহসস্রাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েন এবং আবাদি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।     

স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকাল এলেই গ্রামের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। একতার বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। হাঁটু সমান পানি বিদ্যালয়ের মাঠে। কৃষকরা আমন ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অনেক পরিবারের বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ইউপি সদস্য সাদা মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চান তারা। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলের সমর্থন ছাড়লেন দুই যুবক

ফাইনাল ম্যাচে শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্কালোনি

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’