ভিডিও শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৩ এএম

পুলিশের বিবৃতি: সেই শিবির নেতা অপহরণ নয় আত্মগোপনে ছিলেন

পুলিশের বিবৃতি: সেই শিবির নেতা অপহরণ নয় আত্মগোপনে ছিলেন, ছবি: সংগৃহীত।

মফস্বল ডেস্ক: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধান অপহৃত হননি। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। লাকসাম থেকে রাতে উদ্ধারের পর ছাত্রশিবির নেতা জিসান দাবি করেছিলেন তাকে গাড়ি যোগে অপহরণ করা হয়েছিল । তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, সে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায় ‘ গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীকালে ওই নারী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবে বলে সন্মতি দিয়েছিল।বিবৃতিতে পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার জিসান বিয়ে না করার তালবাহানায় নিজেই আত্মগোপন করে। এ ঘটনায় সে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করে। এদিকে জিসানের নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ০৫-০৬ মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে জনৈক লিজা আক্তার (২৫, বিধবা) এর সঙ্গে মো. জিসান মিয়া প্রধান-এর পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনুসন্ধানকালে আরো জানা যায় যে, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানাধীন জিসান মিয়ার ভাড়া বাসায় লিজা আক্তার জিসান মিয়া কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।

পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে জিসান মিয়া লিজা আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে লিজা আক্তার অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে জিসান মিয়া প্রধান ভিকটিম লিজা আক্তারকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে এবং বাচ্চা নষ্ট না করলে ভিকটিম লিজাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

তার একপর্যায়ে ভিকটিম লিজা জানের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হলে জিসান মিয়া প্রধান তার বন্ধু জনৈক সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকানে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট ক্রয় করে ভিকটিম লিজা আক্তারকে খাওয়ায়। পরবর্তীকালে ভিকটিমের ২/৩ দিন পরে বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ওষুধ সেবনের ফলে ভিকটিমের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ আরম্ভ হলে ভিকটিম নিজে জিসানকে বিষয়টি জানায়।

আরও পড়ুন

তখন জিসান তার চাচাত ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি হতে ওষুধ সংগ্রহ করে লিজার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ইতিমধ্যে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে ভিকটিম লিজা আক্তার জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন তারিখে বিয়ে করতে সম্মতি জ্ঞাপন করে। ইতিমধ্যে ১১ জুন ৮টার পর পর বিয়ে না করার তালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরে সে নিজে আত্মগোপনে ছিল। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশের বিবৃতি: সেই শিবির নেতা অপহরণ নয় আত্মগোপনে ছিলেন

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১-১ গোলের ড্রতে থামল কানাডা-বসনিয়ার রোমাঞ্চকর লড়াই

মারা গেছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি

ল্যারিনের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরল কানাডা, ১-১ সমতায় চলছে খেলা

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৭৯ অভিবাসী গ্রেফতার