এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যেতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পুতিন সম্ভাব্য সফরে যাচ্ছেন। এ সফর ঘিড়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়।
শুক্রবার (১৫ মে) হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, বুধবার (২০ মে) পুতিনের এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফর হতে পারে। তবে এখনো বেইজিং বা মস্কো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ নিশ্চিত করেনি।
ট্রাম্পের সফরের পরপরই পুতিনের সম্ভাব্য এ সফরকে কেন্দ্র করে এক বিরল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে কোনো বড় বহুপাক্ষিক সম্মেলন ছাড়াই বিশ্বের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির নেতাদের আতিথেয়তা দিতে যাচ্ছে বেইজিং।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, পুতিনের চীন সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা খুব শিগগিরই দেয়া হবে। এখন কেবল শেষ মুহূর্তের কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, এ সফর ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ওপর নির্ভর করছে না। বরং রুশ নেতৃত্ব আগেই এ সফর নিয়ে আশাবাদী ছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে বেইজিং ও মস্কো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা উচ্চপর্যায়ের এ কূটনৈতিক সফরগুলো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে রাশিয়া এ সফরকে দুই দেশের চলমান সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুনকূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সফরের তুলনায় পুতিনের সফর তুলনামূলকভাবে কম আনুষ্ঠানিক ও আড়ম্বরপূর্ণ হতে পারে।
পুতিনের এ সফর সফল হলে চীন একটি অনন্য কূটনৈতিক রেকর্ড গড়বে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চার দেশের শীর্ষ নেতাদের আতিথেয়তা দেবে দেশটি।
এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফর করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরান ইস্যু ও ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এ অবস্থায় চীন রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ভারসাম্যে রাখার চেষ্টা করছে।
পুতিন এর আগে একাধিকবার চীন সফর করেছেন। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে তিনি বেইজিং যান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শি জিনপিং ও পুতিন ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন এ সফর বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-রাশিয়া সম্পর্কের ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক





_medium_1778838361.jpg)


