কলাপাড়ার ইদ্রিস হত্যা মামলায় যুবদল নেতা বহিষ্কার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইদ্রিস খানের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে ডেকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুনের দাবি, পাখিমারায় যুবদলের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে প্রথমে পানি খাওয়ার জগ ছুড়ে মারা হয়, পরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তার স্বামী হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইলেও মারধর থামেনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ফের সোমবার রাত ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নিহতের স্বজনেরা লাশ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহতের নিকটাত্মীয় আবুবকর খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার পাখিমারা বাজারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যের দিকে এখন সবার নজর।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1772704958.jpg)







