ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৭ দুপুর

আমের মুকুলের সুগন্ধে মোহিত রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস

আমের মুকুলের সুগন্ধে মোহিত রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস, ছবি: সংগৃহীত।

রাজশাহী কলেজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও অনন্য। বছরের বিভিন্ন সময়ে এই কলেজের সবুজ-শ্যামল পরিবেশ ও নানান রঙের ফুল দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ে। তীব্র শীত শেষে ফাল্গুনের শুরুতেই ক্যাম্পাসজুড়ে আমগাছের শাখাগুলো সোনালি মুকুলে ভারী হয়ে উঠেছে। সময়ের ভেলায় চড়ে নিয়মের নৌকা বেয়ে অনেক আগেই নগরীর প্রতিটি দুয়ারে নোঙর করেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে বইছে হিমেল হাওয়া, সঙ্গে মৃদু উষ্ণতার আবহ। বসন্ত মানেই শিমুল, কৃষ্ণচূড়া ও বাহারি রঙের ফুলের মেলা। ঝিম ধরা দুপুরে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, ফুলে ফুলে ভ্রমর-মৌমাছির ওড়াউড়ি সব মিলিয়ে দৃশ্যটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। 

একসময় নব্বইয়ের দশকে শহরজুড়েই বসন্তের এমন রূপ চোখে পড়ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে শহরের ব্যস্ত জীবনে বসন্ত এখন যেন আসে নিঃশব্দে। আগুনরাঙা ফুল বা প্রকৃতির উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায় না। তবে এর ব্যতিক্রম রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস। এখানকার পরিবেশে এখনো বসন্ত আসে আপন মহিমায় বাহারি ফুল ফোটে, কোকিলের কণ্ঠে শোনা যায় মধুর ডাক। এবারও বসন্তে নতুন রূপে সেজেছে রাজশাহী কলেজ। ক্যাম্পাসের উদ্ভিদবিজ্ঞান ভবন, খেলার মাঠ ও পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকাজুড়ে আমগাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর মৌমাছি ও ভ্রমরের ওড়াউড়ি ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়া দাস বলেন, ক্যাম্পাসে ছুটি না থাকায় দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। তাই বসন্তে গ্রামের সৌন্দর্য দেখা হয়নি। তবে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে আমের মুকুল, রক্তকাঞ্চন, পাখি ফুলসহ নানা ধরনের ফুলের সমাহার সেই অভাবটা অনেকটাই দূর করেছে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো এই মিষ্টি ঘ্রাণ শহরের জীবনেও এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, কলেজের চারপাশ এখন আমের মুকুলের সুগন্ধে আমোদিত। এই পরিবেশ পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক। কোকিলের ডাক, আমের মুকুলের ঘ্রাণ আর হালকা কুয়াশার আবেশ সব মিলিয়ে রাজশাহী কলেজের বসন্তের চিরচেনা রূপ ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য ও সুবাস আমাদের ক্যাম্পাস জীবনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শাহ মো. মাহাবুব আলম বলেন, রাজশাহী কলেজ দেশের সেরা ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই ক্যাম্পাস সবুজ গাছপালায় সমৃদ্ধ। ইতোমধ্যে আমগাছগুলোতে মুকুল আসা শুরু হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে।

আমগাছের পরিচর্যা সম্পর্কে তিনি জানান, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। মাঘ-ফাল্গুন মাসে মুকুল আসার আগে এক থেকে দেড় মাস গাছে পানি ও সার দেওয়া বন্ধ রাখতে হয়। এ সময় পানি ও সার দিলে শাখা-প্রশাখা বেশি বাড়ে, ফলে মুকুল কম আসে। পোকা দমনে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপ ও ম্যানকোজেব জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে পাখি ফুল, হিজল, হলুদ করবী, কলকে, কাবাব চিনি, পুত্রঞ্জিমা, ফলসাসহ বিভিন্ন ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব গাছ নিয়মিত সার ও পানি দিয়ে পরিচর্যার প্রয়োজন উল্লেখ করে পরিচর্যায় নিয়োজিতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 

 

আরও পড়ুন

লেখক :

হুমাইরা সুলতানা মল্লিক

শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষ , 
রাজশাহী কলেজ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেইমারের সামনে ব্রাজিল দলে ফেরার শেষ সুযোগ 

আমের মুকুলের সুগন্ধে মোহিত রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস

‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ বিআরটিসির, চালক হবেন মহিলা

ফতুল্লায় মৎস্যজীবী দলের নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ইরানে ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে : রেড ক্রিসেন্ট

বেকারত্ব থেকে প্রভাবের অর্থনীতি: সমাজের অবস্থান ও দায়