ভিডিও মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৩১ বিকাল

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া ও পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিবৃতি

গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম (ঠিকানা: বালাদিয়া, পুঠিয়া, রাজশাহী) নিহত হন। অন্যান্য যাত্রীদের আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনতার মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট থানা (বেলপুকুর থানা, পবা হাইওয়ে থানা ও পুঠিয়া থানা) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। থানার সীমানাজনিত সিদ্ধান্তহীনতার কারনে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এর ফলে স্থানীয় জনতার ক্ষোভ তীব্র হয় এবং বাসচালককে আটকের দাবি উঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন গতিকে দায়ী করে জনতা।

দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আনুমানিক ৩০-৪০ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বডি ব্যাগে সহপাঠীর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তীব্র মানসিক চাপ ও আবেগের কারণে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বাসচালক আটক না হওয়া, থানা নিয়ে সীমানাজনিত সিদ্ধান্তহীনতার কারনে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ও সহপাঠীদের মধ্যে ব্যাপক জনরোষের ফলে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা ওই সময় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত রাখার এবং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেন।
 
আনুমানিক রাত ৯ টার সময়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি  স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় কুচক্রীমহল সেনাবাহিনী, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এমন কি রাস্তায় পড়ে থাকা লাশের ওপরও ইট-পাটকেল পড়তে থাকে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহপাঠীর লাশ সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্সে লাশটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উক্ত অনাকাঙ্খিত ঘটনাসমূহের প্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে এবং ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, বেলপুকুর থানায় নিহত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্তর পক্ষে ছাত্র-শিক্ষকসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মামলা রুজু করতে গেলে থানার সামনে থেকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনকে সর্বোচ্চ সমর্থন করে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, ঘটনার বাস্তবতা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নমনীয় ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা হলে একটি ন্যায় ও যুক্তিসংগত সমাধান সম্ভব।

ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখে, প্রত্যাশা করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং গ্রেপ্তারকৃত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া ও পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিবৃতি

শবে বরাতে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় তারেক রহমান

আড়াই ঘণ্টা পর সাতরাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

১০ম গ্রেডের দাবিতে বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অবরোধ : ক্ষুব্ধ জনগণ ও যাত্রীরা

‘হর্ন বাজানো নিষেধ, আমরা তো জানিই না’

বগুড়ায় পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ