ভিডিও সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৮ রাত

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় বহিরাগত কিশোরদের কানে ধরিয়ে উঠবস করালেন ডাকসু নেতা সর্বমিত্র

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় বহিরাগত কিশোরদের কানে ধরিয়ে উঠবস করালেন ডাকসু নেতা সর্বমিত্র

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এ ঘটনার দৃশ্য দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ২১-২২ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় একটি লাঠি হাতে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে।

এছাড়া ঘটনাস্থলে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিম দিক থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগত কিশোর-তরুণদের খেলতে আসতে দেখা যায়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “এখানে বাইরের শিক্ষার্থীরা খেলতে আসে। তাদের খেলতে বাধা দিলে তারা বের হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। মাঠের কর্মচারীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এছাড়া আমাদের শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে। কিছুদিন আগেও একটি ফোন চুরি হয়েছে। এসব কারণে বারবার তাদের বারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই সমস্যার জন্য সবচেয়ে বড় দায় কোষাধ্যক্ষের।

আরও পড়ুন

কারণ মাঠে দেয়াল নির্মাণের জন্য বারবার তার কাছে ফাইল পাঠানো হলেও তিনি অনুমোদন দেননি, বরং ফাইল ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানাচ্ছেন।” কিশোর-তরুণদের কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “হ্যাঁ, নির্দেশ দিয়েছি।

সেখানে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ছিলেন, অন্যান্য কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।” একজন ডাকসু সদস্যের এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি কোনো টেকসই সমাধান না আসে, তাহলে আমাকে তো ব্যবস্থা নিতে হবে। বহিরাগতরা বারবার মাঠে ঢুকছে—তখন আপনি কী করবেন?” তিনি আরও বলেন, “ডাকসু আসার আগেই তাদের এই মাঠে না খেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও তারা সে নির্দেশ মানছে না।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিমতও বিবেচনায় নিতে হবে।” এ বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, “বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে বারবার আমাদের ওপর দায় আসে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আমরা মৌখিকভাবে আমাদের জায়গা থেকে কাজ করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেটা ভালো মনে হয়েছে, সেটাই করেছি।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, “এ ধরনের কোনো ভিডিওর বিষয়ে আমি অবগত নই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিষয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। খেলতে আসতে হলে নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নিতে হবে।” একজন ডাকসু সদস্য কাউকে কানে ধরিয়ে শাস্তি দিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখব।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাকসুর মশা নিধন কর্মসূচি

ভোটের প্রচার ও ভোটে উদ্বুদ্ধকরণে জয়পুরহাটে জেলা ইমাম সম্মেলন

বগুড়ার ধুনটে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা দখল করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে

দিনাজপুরের বাজারেও বিক্রি হচ্ছে রঙিলা জাতের ফুলকপি

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় শিশু ও গৃহবধূসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

নওগাঁর ধামইরহাটে ডাম্পট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নারী নিহত