ভিডিও রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

ডাকসু নির্বাচন: ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা

ডাকসু নির্বাচন: ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল তাদের বিস্তারিত ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন প্যানেলের নেতারা।

প্যানেলের ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জমিদারপ্রথা বিলুপ্তি থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ দীর্ঘ ৩৪ বছর, বিশেষ করে গত ১৭ বছরে শিক্ষার্থীরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে দমন-পীড়নের ঘাঁটিতে। আমরা চাই এমন একটি ডাকসু, যারা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করবে এবং ক্ষমতাসীনদের চোখে চোখ রেখে বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং একে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের একমাত্র পরিচয় হবে ‘স্টুডেন্ট’। ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বৈষম্য বা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রতিবছর নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করে ছাত্ররাজনীতিকে পরিবারতন্ত্র ও ক্যাডার রাজনীতি থেকে মুক্ত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।” ই

শতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি:

রাজনৈতিক সংস্কার: প্যানেলটি নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজন, ক্যাম্পাসে অস্ত্র-সন্ত্রাস ও ক্যাডার রাজনীতি বন্ধ, জাতীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি ’৪৭, ’৭১, ’৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

একাডেমিক ও প্রশাসনিক উন্নয়ন: ’৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত, ভিসি-প্রোভিসি-প্রভোস্টসহ নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, ওয়ান-স্টপ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ভর্তি, ফলাফল ও বেতনসহ সকল একাডেমিক সেবা অনলাইনে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্প্রসারণ, শিক্ষক নিয়োগে দলীয় প্রভাবমুক্তি, ডেমো ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ডিগ্রি, স্কলারশিপ ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণ: শিক্ষার্থীদের জন্য One Card, All Service চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে লাইব্রেরি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, ক্যান্টিন ও হল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে One Student One Seat নীতি চালু, স্বাস্থ্যবীমা, প্রতিটি হলে মেডিকেল অফিসার ও Sick Room, ২৪ ঘণ্টার ফার্মেসি, আধুনিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রমা সেন্টার চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সব শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে সুদবিহীন ঋণ এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় ঢামেক ও পিজি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট: ক্যাম্পাস জুড়ে স্টারলিংকের মাধ্যমে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও প্রতিটি একাডেমিক ভবন ও হলে এডুরোম ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন ও ক্যান্টিন: ভাড়ায় চালিত পরিবহনের পরিবর্তে নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু করা হবে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত আউট ট্রিপ ও রাত ১০টা পর্যন্ত ইন ট্রিপের জন্য পৃথক চক্রাকার বাস সার্ভিস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিন সুবিধা প্রসারিত করতে One Card, All service কার্ডে খাবার অ্যাকসেস, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার ভর্তুকি ও মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন অনুষদ ভবনে নতুন ক্যান্টিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: প্যানেলটি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, হলে হলে আউটসোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ভর্তির পর বেসিক স্কিল কোর্স চালুর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া উদ্যোক্তা হাব গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এক হাজার পার্টটাইম চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া: বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণ, ১৮টি হলে টিভি রুমকে মিনি সিনেপ্লেক্সে রূপান্তর ও কেন্দ্রীয় সিনেপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক গেমস রুম ও জিমনেসিয়াম, খেলার মাঠ সংস্কার, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও টিএসসিভিত্তিক ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার অঙ্গীকারও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: নারী হলগুলোতে স্পোর্টস সুবিধা ও আধুনিক জিমনেসিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স, মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসারিতকরণ, অনাবাসিক হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার, ক্যাম্পাসকে নারীবান্ধব করা এবং সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করে সমান ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

আইনি সহায়তা: শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য লিগ্যাল সাপোর্ট সার্ভিসচালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলির সড়কে জলাবদ্ধতা 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১২ দিনেও পরিচয় মেলেনি লরির চাপায় নিহত দুই নারীর, চালক-হেলপার গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার জমির ধান গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা

পাবনার সুজানগরের পদ্মা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

রংপুরে হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান