ভিডিও শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে’, ছবি: দৈনিক করতোয়া।

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু )নির্বাচনে  স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাবি প্রতিনিধি সাকিব হাসান সজীব।

দৈনিক করতোয়া :সামনে ডাকসু নির্বাচন। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি কেমন দেখছেন? সেনামোতায়েনের দরকার আছে কি?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: পরিস্থিতি ক্যাম্পাসের যথেষ্ট ভালো। ক্যাম্পাসে উৎসব মুখর পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি। আমি অনেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছি তাদের মধ্যে ভয়ের শংঙ্কা আছে। অনেকেই বাড়ি চলে যাচ্ছে তাদের পরিবার থেকে নাকি একটা প্রেসার আছে। আর এখানে যদি সেনামোতায়েন হয় সেটা আরো বেশি ভয়ের সৃষ্টি করবে। আর আমি মনে করি এরকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সেনামোতায়েন করতে হবে।

দৈনিক করতোয়া: স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত কি আগে থেকে নিয়েছিলেন? নাকি দলের সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপের দিকে?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমি শেষ মুহূর্তে এসে নিয়েছি। আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। এখানে দলের সাথে খারাপ সম্পর্কের কিছু নেই। দল থেকে সবার জন্যই সর্মথন ছিল।

দৈনিক করতোয়া:একের পর এক নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে কি না?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: আচরণ বিধি যেগুলো লঙ্ঘন করা হচ্ছে এটাতে আমরা খুবই হতাশ। আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে নির্বাচন কমিশনারের সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি এ ব্যাপারে। বিশেষ করে কয়েকটা ছাত্রসংগঠনের প্যানেল এই আচরণ বিধি বেশি ভঙ্গ করছে। তাদেরকে এগুলো আরো অনুপ্রাণিত করবে নির্বাচনী বিধি না মানার জন্য। এটা অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বাঁধা।

দৈনিক করতোয়া:নির্বাচনে অর্থ, প্রভাব, এগুলো কতটা প্রভাব ফেলছে?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: আমরা দেখতে পাচ্ছি এই নির্বাচনে অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়ে গেছে। অনেকে ব্যাচ ভিত্তিক ও হল ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে বাহিরে নিয়ে গিয়ে খাওয়াচ্ছে। এই বিষয় গুলো নির্বাচনের কমিশনের জায়গা থেকে ব্যবস্থা নেওয়া ও সহজ না কিন্তু তারা এই বিষয় গুলো একেবারেই এড়িয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

দৈনিক করতোয়া: শিক্ষার্থীদের কোন কোন সমস্যা গুলো বেশি? আপনি তাদের জন্য কিভাবে কাজ করতে চান?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা। দেখেন এখানে প্রায় ১০০ বছরের তৈরি হওয়া সমস্যা গুলো রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। আমার এক নাম্বার প্রায়োরিটি হবে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা।
পরিষ্কার ভাবে বলতে গেলে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্লাস করে আমি এমন একটা ব্যবস্থা করব যেখানে শিক্ষার্থীদের না খেয়ে থাকতে হবে না। আমার ইশতেহার হচ্ছে ডায়েট ফর অল। আমরা ফুড ক্রেডিট সিস্টেম চালু করব যেখানে উট এপপ্স এর মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবে। এই ক্রেডিটটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ক্যান্টিন গুলো আছে সেগুলো ডিজিটালাইজেশনের মাধমে এই ক্রেডিট ব্যবহার করা যাবে প্রত্যেক মিলের জন্য। যখন যার প্রয়োজন হবে সে এটি ব্যবহার করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কনসার্ন হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  জবাবদিহিতা। যারা ডাকসু প্রতিনিধি আছে ও প্রশাসনে দায়িত্বরত আছে আমি এটা তাদের মধ্যে আনতে চাই।  আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটালাইজ্ড করব। বিশেষ করে রেজিস্টার বিল্ডিং থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়গুলো ডিজিটালাইজ্ড করার চেষ্টা করবো যাতে শিক্ষার্থীরা হয়রানি শিকার না হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু। আমি চাই একটি টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল বডিকে আরো শক্তিশালী করা উচিত।আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিভাগ ও রিসার্চ সেন্টার গুলো আছে এগুলোতে ফেলোশিপ সিস্টেম ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করব যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার দিকে আগ্রহ বাড়ায়।

দৈনিক করতোয়া :শিক্ষার্থীরা আপনাকে কেনো ভোট দিবে? এখন পর্যন্ত কেমন সারা পাচ্ছেন তাদের থেকে?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: ডাকসুতে যারা প্রাথী আছে আপনি খেয়াল করলে দেখবেন কারো কারো আন্দোলন করার অভিজ্ঞতা আছে কারো একডেমিক এক্সসেলেন্স আছে। আমার ক্ষেত্রে দুই দিকেই ব্যালেন্স আছে। যেমন একাডেমিক দিক দিয়ে আমার একটা অবস্থান আছে, আবার একই সাথে আমি গবেষণার সাথে জড়িত ছিলাম। আমি বিতর্কের সাথে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রিপ্রেজেন্ট করেছি। আমি গণতান্ত্রিক আন্দোলন গুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। পাশাপাশি আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে ও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

আমি শিক্ষার্থীদের সাথে মিশেছি এবং তাদের যে সমস্যা গুলো আছে এগুলো আমি জানি আর এগুলো সমাধান করার ও সামর্থ আমার মধ্যে আছে। আর আমি অনেক গুলো কমিউনিটির সাথে জড়িত। শিক্ষার্থীদের কাছে এখন পর্যন্ত ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি শিক্ষার্থীরা যোগ্য নেতৃত্বকেই বেছে নিবে।

দৈনিক করতোয়া: ডাকসু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি বলে আপনি মনে করেন?

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী: ডাকসুর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে গেলে প্রধান কাজ হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  কেউ বেশি অ্যাডভান্টেজ পাবে আর কেউ কম এটা যেন না হয়। যারা সহিংস আচরণ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভয়ের শংঙ্কা আছে এটি দুর করতে পারাই ডাকসুর এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ  বলে আমি মনে করি।
দৈনিক করতোয়া: আপনাকে ধন্যবাদ।

তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী:  দৈনিক করতোয়াকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অপরাধ কর্মকান্ড বাড়ছে

মাদারীপুরে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

সিলেটে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদরদপ্তরে বিজেপির হামলা-ভাঙচুর

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত