মতিউল ইসলাম সাদী
পিতার পথে হাঁটছেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রথম প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন তাঁর সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তার পূর্ণতা পায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। এই দিনটি জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
বলা যেতে পারে এই দিনটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দিন। অর্থাৎ ভারতীয় আধিপত্য থেকে পরিত্রাণের দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ বছর একদিকে আওয়ামী লীগ এবং ভারতীয়দের চরম লুটপাট। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন বিপর্যস্ত এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে-তখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন জিয়াউর রহমান। একইভাবে ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুর্নীতি লুটপাট আর ভারতীয়দের শোষণের পাশাপাশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দেশের অর্থনীতি যখন ভঙ্গুর- তখন ক্ষমতায় আসেন তারেক রহমান।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে প্রথম যে কাজটি করেন তা হলো কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি চালুর উদ্যোগ। এর জন্য তিনি দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তিনি মনে করতেন কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন করতে প্রয়োজন সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে খাল খনন কর্মসূচি নেন। ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
একইভাবে পিতার পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে কৃষির প্রতি গুরুত্ব দেন। গ্রহণ করেন খাল খনন কর্মসূচি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে শুরু করেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। দেশের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মত ১৯৭৬ সালের জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি করা হয়। একইভাবে তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে পিতার মত জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়ে মালয়েশিয়া সফরে যান। সেখানে তিনি ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। শুধু মালয়েশিয়ায় নয়, বিশ্বের শ্রম বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে তারেক রহমান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার পাশাপাশি তার প্রচেষ্টায় আগামী ৫ মাস পর থেকে জাপানে লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন।
১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি করেন জিয়াউর রহমান। ইউরোপের দেশ ফ্রান্স দিয়ে তিনি প্রথম পোশাক রপ্তানি শুরু করেন। জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি তারেক রহমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও পোশাক ও বস্ত্রখাতের রপ্তানি বৃদ্ধি ও সংকট মোকাবেলায় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। পিতা যেমন রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন তেমনি সন্তান তারেক রহমানও নগদ প্রণোদনা বৃদ্ধিসহ দেশীয় সুতা ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি অপ্রচলিত নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
পিতা জিয়াউর রহমান যেমন দেশপ্রেম থেকে প্রথম বাংলাদেশ গানটি দলীয় সঙ্গীতে পরিণত করেন। তেমনি তারেক রহমান পছন্দের শ্লোগান হলো- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শহদি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তার সন্তানও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোন আপস করতে রাজি নন। জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম নিয়ে উক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ’’। তাঁর মতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকেরই একজন সৈনিকের ভূমিকা পালন করা উচিত।
আরও পড়ুনতারেক রহমানও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে পিতার মতই বলেছেন, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ কোন আপস করবে না। অর্থাৎ স্বাধীন সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পিতা ও সন্তানের একই মনোভাব। পিতা জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের বাস্তব অবস্থা দেখে সমাধান দেওয়ার জন্য যেমন দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছেন ঠিক তেমনি তারেক রহমান রাজনীতিতে এসেই দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে ঘুরে মানুষের দুঃখ দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেছেন এবং দরিদ্র মানুষগুলোকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল-বিতরণ করেছেন। শুধু পিতার পথ নয়, তারেক রহমান তাঁর মায়ের পথও বেছে নিয়েছেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তেমনি তারেক রহমানও দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগে নিয়েছেন। পিতা জিয়াউর রহমানের মতই তারেক রহমানও বিশ্বাস করেন। ‘‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ”। এর প্রমাণ তিনি বারবার দিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য তিনি সংরক্ষিত আসনের ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করান। শুধু এমপি নয়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের একটি ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনা শুরু হতেই তাকেও পদত্যাগ করতে হয়।
(বি: দ্র: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে ঢাকার রাজপথে একের পর এক গণহত্যা শুরু করলে সে সময় চট্টগ্রামে অবস্থান নেওয়া ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকগণ এক আলোচনা সভায় রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন-কমান্ড তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করেন)। তথ্য: স্বাধীনতা ঘোষণা, মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান ।
লেখক : গণমাধ্যম কর্মী , সাবেক সভাপতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বগুড়া।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1792909942.jpg)
_medium_1792823374.jpg)
_medium_1792818060.jpg)
_medium_1792663066.jpg)
_medium_1792662207.jpg)
_medium_1792565260.jpg)

_original_1790678416_medium_1792914094.jpg)
_medium_1792915995.jpg)