ই-বাইকের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে? আয়ু বাড়াতে খেয়াল রাখুন ৪টি বিষয়ে
বাইক স্টার্ট দিতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল ব্যাটারি ডেড-এর চেয়ে বিরক্তিকর পরিস্থিতি আর কী হতে পারে! অনেকেই এমন হলে সরাসরি ব্যাটারি বদলে ফেলেন। কিন্তু সবসময় ব্যাটারিই যে আসল সমস্যার কারণ, তা নয়। বাইকের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ছোটখাটো ত্রুটি থাকলেও নতুন ব্যাটারি দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তাই বারবার ব্যাটারি পরিবর্তনের আগে বাইকের ইলেকট্রিক সিস্টেমের কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
১. চাবি অন রেখেই বাইক ফেলে রাখছেন?
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হলো ইগনিশন চালু রেখে বাইক দাঁড় করিয়ে রাখা। অনেক সময় অল্প সময়ের জন্য বলে চাবি অন রেখেই বাইক থেকে নেমে যান। কিন্তু ইঞ্জিন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও হেডলাইট, মিটার, ইন্ডিকেটর বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
এভাবে দীর্ঘ সময় বাইক পড়ে থাকলে ব্যাটারির চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বারবার এমন হলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং তার কার্যক্ষমতাও কমতে শুরু করে। তাই বাইক পার্ক করার পর চাবি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা উচিত।
২. বাইক বন্ধ, তবুও ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ যাচ্ছে?
আরেকটি বিষয় হলো প্যারাসাইটিক ড্রেইন। সহজভাবে বললে, বাইক বন্ধ করে রাখার পরও যদি কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ তারের মাধ্যমে সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হতে থাকে, তখন সেটিকে প্যারাসাইটিক ড্রেন বলা হয়। ভুলভাবে লাগানো কোনো অ্যাকসেসরি, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়্যারিং, বৈদ্যুতিক লিকেজ বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ত্রুটির কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে কয়েক দিন বাইক ব্যবহার না করার পর যদি বারবার ব্যাটারি ডেড হয়ে যায়, তাহলে শুধু ব্যাটারি বদলানোর বদলে ইলেকট্রিক সিস্টেম পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ মূল সমস্যা ঠিক না করলে নতুন ব্যাটারিও একইভাবে দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন৩. রেগুলেটর-রেকটিফায়ার বা স্টেটরে সমস্যা
বাইকের ব্যাটারি শুধু ব্যাটারি নিজে থেকে চার্জ হয় না। ইঞ্জিন চালু থাকার সময় অল্টারনেটর বা স্টেটর বিদ্যুৎ তৈরি করে এবং রেগুলেটর-রেকটিফায়ার (আরআর) সেই বিদ্যুৎকে ব্যাটারি চার্জের উপযোগী করে। এই ব্যবস্থার কোনো অংশে সমস্যা হলে ব্যাটারি প্রয়োজনমতো চার্জ নাও পেতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে ওভারচার্জও হতে পারে। দুটো পরিস্থিতিই ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।
আরআর বা চার্জিং সিস্টেমে সমস্যা থাকলে বাইকের হেডলাইট অস্বাভাবিকভাবে ম্লান হওয়া, ইন্ডিকেটরের আলো কাঁপা বা আচমকা ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে স্টেটর ঠিকমতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলে ব্যাটারিতে প্রয়োজনীয় চার্জ পৌঁছাবে না। ফলে বাইক চললেও ব্যাটারির চার্জ ধীরে ধীরে কমতে পারে।
৪. ফিউজের সমস্যাও অবহেলা করবেন না
বাইকের বৈদ্যুতিক সার্কিটকে সুরক্ষিত রাখতে ফিউজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফিউজ বা সংশ্লিষ্ট সার্কিটে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব চার্জিং সিস্টেমের ওপরও পড়তে পারে। তবে ফিউজ নষ্ট হলেই যে সরাসরি ব্যাটারি খারাপ হয়ে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কেন ফিউজ বারবার নষ্ট হচ্ছে, সেটির কারণ খুঁজে বের করাও জরুরি।
ব্যাটারি বদলানোর আগে পরীক্ষা জরুরি
বাইক স্টার্ট না নিলে অনেকেই দ্রুত নতুন ব্যাটারি কিনে ফেলেন। কিন্তু একই সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে ব্যাটারি বদলানোর পাশাপাশি চার্জিং সিস্টেম, স্টেটর, রেগুলেটর-রেকটিফায়ার, ফিউজ এবং ওয়্যারিং পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ সমস্যার মূল কারণ ঠিক না করে শুধু ব্যাটারি পরিবর্তন করলে অকারণে বারবার খরচ হতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সময়মতো বৈদ্যুতিক ত্রুটি শনাক্ত করতে পারলে ব্যাটারির আয়ুও বাড়ানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন

আইটি ডেস্ক








