ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহে কী করবেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিশেষজ্ঞদের মতে ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহটাই সবচেয়ে কঠিন। এই সময়ে অনেকেই আবেগে ভুল করে বসেন। আবার অনেকেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে না রাখতে বেড়ে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ান। মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
ব্রেকআপের পর প্রথম দিকে নিজেকে সামলানোর কিছু কৌশল জানিয়েছেন মনোবিদ। একটি সম্পর্কের শেষ মানেই শুধু একজন মানুষকে জীবন থেকে হারানো নয়, অনেক সময় এর সঙ্গে বদলে যায় প্রতিদিনের অভ্যাস, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসও। তাই ব্রেকআপের পর প্রথম কয়েকটি দিন ভীষণ অস্থিরতায় কাটতে পারে। কখনো কান্না, কখনো রাগ, আবার কখনো প্রাক্তন সঙ্গীর কাছে ফিরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা সব কিছুই একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বিশেষ করে ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহ মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। এই সময়ে আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে আফসোসের কারণ হতে পারে। তাই এই সময়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত ‘মুভ অন’ করা নয়, বরং নিজেকে ধীরে ধীরে স্থির করা। মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগানের মতে, প্রথম সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিক জায়গা তৈরি করা। মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহে নিজেকে স্থির রাখার কার্যকর ৫টি উপায় জানিয়েছেন।
এগুলো হলো-
নিজের যত্ন
ব্রেকআপের পর অনেকেই খাওয়া-দাওয়া, ঘুম কিংবা নিজের যত্নের বিষয়গুলো উপেক্ষা করেন। কিন্তু মানসিক চাপের সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তি যুক্ত হলে উদ্বেগ ও মন খারাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করুন নিয়মিত ঘুমাতে, সময়মতো খাবার খেতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে। শরীরকে সচল রাখতে অল্প সময় হাঁটাও উপকারী হতে পারে।
আবেগ প্রকাশ করুন
ব্রেকআপের পর দুঃখ, রাগ, একাকিত্ব কিংবা হতাশা অনুভব করা স্বাভাবিক। এসব অনুভূতি জোর করে দূরে সরিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের একটি ‘ফিল, ডোন্ট ফাইট’ সময় রাখতে পারেন। এ সময় নিজের অনুভূতি লিখুন, কাঁদতে ইচ্ছা করলে কাঁদুন অথবা চুপচাপ বসে নিজের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। নিজের অনুভূতির নাম দিতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ‘আমি তাকে মিস করছি’, ‘আমি একা লাগছে’ কিংবা ‘আমি রাগান্বিত’। এতে আবেগকে কিছুটা গুছিয়ে নেয়া সহজ হতে পারে। তবে লক্ষ্য হবে আবেগকে অনুভব করা, পুরো দিন তার মধ্যে ডুবে থাকা নয়।
প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন
ব্রেকআপের পর অনেকেই প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। প্রাক্তন কী করছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন, নতুন কাউকে অনুসরণ করছেন কি না, অনলাইনে আছেন কি না এসব বারবার দেখেন। পুরোনো ছবি, মেসেজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বারবার দেখলে মনের কষ্ট নতুন করে জেগে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে কিছুদিনের জন্য তার প্রোফাইল মিউট বা আনফলো করে রাখতে পারেন। কারণ নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য কিছুটা দূরত্ব দরকার।
একা থাকবেন না
ব্রেকআপের পর অনেকেরই কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখলে একাকিত্ব এবং অতিরিক্ত চিন্তা আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে কাছের মানুষের সঙ্গে থাকুক যাদের কাছে আপনি নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করেন।
আবেগ নিয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া
প্রথম সপ্তাহে আবেগ অত্যন্ত তীব্র থাকতে পারে। তাই এই সময় হঠাৎ করে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, চাকরি ছেড়ে দেয়া, কিংবা প্রাক্তনকে বারবার মেসেজ পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ করে শেষবার কথা বলি, সে আমাকে এখনো ভালোবাসে কি না দেখি এসব করা যাবে না। শিরিন দারগানের মতে, এই সময়ের উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে ভুলে যাওয়া নয় বরং নিজে শক্ত করতে হবে।
ব্রেকআপের পর মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে দুঃখ, উদ্বেগ, ঘুম বা খাওয়ার পরিবর্তন যদি খুব তীব্র হয়ে ওঠে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিজের ক্ষতি করার চিন্তা দেখা দিলে একা না থেকে দ্রুত বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নেওয়া এবং পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহ তাই কাউকে ভুলে যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়। এই সময়টা নিজের যত্ন নেয়া, আবেগকে বোঝা এবং ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সময়।
মন্তব্য করুন





_medium_1788069659.jpg)


_medium_1788416359.jpg)
_medium_1788429102.jpg)