রংপুরের চার খুনের সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের বদলির সম্পর্ক নেই: আরপিএমপি
রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের বদলির সঙ্গে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন (১২ আগস্ট ২০২৬) নিয়ে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে তাঁর পদায়নকে মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তথ্যগতভাবে সঠিক নয় এবং এতে জনমনে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
আরপিএমপি জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের স্মারক নম্বর-৪৪,০০,০০০০.০০০.০৯৪.১৯.০০৮৫.২৫-২৯৩, তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। অর্থাৎ, মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২২ আগস্ট, আর তাঁর পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এর ১০ দিন আগেই।
তাই ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ায় হত্যাকাণ্ডের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা ওই ঘটনার কারণে তাঁর পদায়ন হয়েছে এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে আরপিএমপি ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বে থাকাকালে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, তাৎক্ষণিক পেশাদার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর মাছুয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি অর্জিত হয়।
আরও পড়ুনঘটনার পরপরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মাঠে নামে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার জনমনে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে পুলিশ কমিশনারের দক্ষ নেতৃত্ব, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সঠিক তথ্য জনসাধারণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন জনআস্থা অটুট রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই কোনো ঘটনার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও জনআস্থা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন

_medium_1787727300.jpg)






_medium_1787724115.jpg)
_medium_1787728275.jpg)