ভিডিও রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:১৩ পিএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি বিনিয়োগ আদায় কার্যক্রম জোরদারে “কালেকশন এন্ড রিকভারি ওয়ার-রুম” গঠন

খেলাপি বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে বিশেষ “কালেকশন এন্ড রিকভারি ওয়ার রুম”গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার প্রধান অতিথি হিসেবে ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার ব্যাংকের কর্পোরেট হেড অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে “কালেকশন এন্ড রিকভারি ওয়ার রুম”-এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি, বড় ঋণগ্রহীতাদের রিকভারি স্ট্রাটেজি, নির্ধারিত কালেকশন টার্গেট, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে পাঁচটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দসহ রিকভারি ও লিগ্যাল ডিভিশনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক, যা এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি-এর সকল সম্পদ ও দায় হস্তান্তরের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির শক্তিশালী মূলধন কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন কাঠামো গড়ে তোলাহয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে আদায় ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। বিপুল সংখ্যক আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষা এবং তাদের আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগ আদায় কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গঠিত “কালেকশন এন্ড রিকভারি ওয়ার রুম”-এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে। একইসঙ্গে কালেকশন এন্ড রিকভারি কার্যক্রমও এই ওয়ার রুম-এর মাধ্যমে পরিচালনা ও সমন্বয় করা হবে।এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার করা এবং বিনিয়োগ আদায়ের সম্ভাব্য সকল সুযোগ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো। একইসঙ্গে বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত ফলো-আপ নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনগত ও অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সর্বোপরি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, কালেকশন এন্ড রিকভারি কার্যক্রমকে শুধু একটি নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এটি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকের আর্থিক পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।তিনি বলেন, কার্যকর ও দ্রুত ঋণ আদায় নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে এবং এর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, এর সফলতা ও সকল অর্জন আমাদের জাতীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। এখানেসুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহকবান্ধব ও পেশাদার ইসলামী ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তর করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এজন্য প্রত্যেক সহকর্মীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। “কালেকশন এন্ড রিকভারি ওয়ার রুম”-এর সমন্বিত ও নিবিড় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে এবং ব্যাংকের আমানতকারী, গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাটোরের লালপুরে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

রংপুরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ইমন গ্রেফতার

বগুড়ার আদমদীঘিতে বিভিন্ন অভিযোগে নারীসহ ৯ জন গ্রেফতার

খুলনার জিরো পয়েন্টকে নজরুল চত্বর ঘোষণা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর

শিবচরে অজ্ঞাত রোগে এক পরিবারের ১১ জন অসুস্থ

নীলফামারীর ডিমলায় ব্যবসায়ী পরিচয়ে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও