নওগাঁর নিয়ামতপুরে স্বস্তির বৃষ্টিতে রোপা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, শ্রমিক সংকটে কৃষক
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে টানা কয়েকদিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় পুরোদমে রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। জমিতে চাষ, আগাছা পরিষ্কার, বৃষ্টির পানি জমিতে সংরক্ষন করা, সার দেয়াসহ নানা কাজে এখন দারুণ ব্যস্ত তারা।
২১ ও ২২ জুলাই মঙ্গলবার ও বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় সেচবিহীন কম খরচে আমন ধান চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখেন কৃষকরা। সময় মতো বৃষ্টির দেখা মিলায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কোমড়ে গামছা বেঁধে জমিতে রোপা আমন চারা রোপণে নেমে পড়েছেন কৃষকরা।
তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫% অর্থাৎ ১৩ হাজার ৮শ ৯০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯শ ২৮ মেঃটন।
এবারে উপজেলায় স্বর্ণা ব্রি ধান- ৩৪, ৪৯, ৫১, ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০৩ ও বিনা- ৭, ১৭, ২০, ২২, ২৬ জাতের ধান রোপণ করছে বেশি। গত ফলন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৫.৭ মেঃটন অর্থাৎ ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯শ ২৮ মেঃটন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬৩৬ কোটি ৯৪ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে।
উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক তোতা বলেন, চলতি মৌসুমে আমি ২৪ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করি। ইতোমধ্যে আমার সকল জমিতে রোপা আমন ধান রোপণ শেষ। আষাঢ় মাসের প্রথম দিকে আকাশের বৃষ্টির দেখা না পেলেও আমি পানি সেচ দিয়ে ধান রোপণের কাজ শুরু করি। পরে বৃষ্টি জন্য তাড়াতাড়ি আমার ধান রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।
আরও পড়ুনউপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের জায়দুল ইসলাম বলেন, আমি ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করবো। জমি চাষের কাজ শেষ এখন শুধু ধান রোপণ করতে হবে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় তিনদিন থেকে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। তবুও শ্রমিক মিলাতে পারছি না। এখন শ্রমিকের মজুরী চলছে বীজ তুলা থেকে লাগানো পর্যন্ত বিঘা প্রতি ১ হাজার ৫শ থেকে ১ হাজার ৬শ টাকা। আমি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২শ টাকা পর্যন্ত দিতে চেয়েছি তবুও শ্রমিক পাচ্ছি না।
উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, আমার ১৫ বিঘা জমিতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হয়েছে। এখন পুরোদমে আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিকদের মাধ্যমে রোপণের কাজ চলছে।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় আবাদের জন্য জমি তৈরী ও ধান রোপণের কাজে ব্যস্ত অনেক কৃষক। এখন পর্যন্ত উপজেলায় কৃষকরা প্রায় ৪৫% কৃষক রোপা আমন লাগাতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটু দেরিতে হলেও শ্রাবন মাসের মাঝামাঝিতে প্রায় শেষ হবে রোপা আমন রোপণের কাজ।
এই শ্রাবণ মাসই ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। এখন আর কৃষকের কোন সমস্যা নেই। সারের কোন সংকট নেই। তাছাড়া কৃষকদের যে কোন সমস্যার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের দরজা সব সময় খোলা। প্রতিটি ইউনিয়নে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে। তারাও সব সময় কৃষদের মাঝে রয়েছে। আশা করি আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ হবে।
মন্তব্য করুন







