ভিডিও মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৬:১৩ পিএম

ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ ঝিমিয়ে পড়েছে বুড়িমারী স্থলবন্দর

ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ ঝিমিয়ে পড়েছে বুড়িমারী স্থলবন্দর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের অন্যতম রাজস্ব আদায়কারী লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। ভারতীয় পাথরের সংকটে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। আর এ সুযোগে পাথরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ভুটান। দেশটি থেকে সীমিত পরিসরে পাথর আমদানি করা হচ্ছে এখন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে পাথর, মৌসুমি ফল ও কয়লা (সীমিত আকারে) উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি ওভারলোডিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ট্রাকপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ টন পাথর পরিবহনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ভারত সরকার। ফলে আগের মতো অতিরিক্ত পাথর বহনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দর-কষাকষি ও আলোচনার জটিলতার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পাথর রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন। অন্যদিকে বেশি দামে পাথর কিনতে আগ্রহী নন বাংলাদেশি আমদানিকারকরাও।

এদিকে, ভারতীয় পাথরের সংকটের সুযোগে বেড়ে গেছে ভুটান থেকে আমদানি হওয়া পাথরের দাম। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভুটান আগে থেকেই নির্ধারিত ওজন মেনে পাথর রপ্তানি করে আসছে। বর্তমানে ভুটানের তোর্শা এলাকা থেকে প্রতি টন পাথরের আমদানি মূল্য ১৫ ডলার এবং সামসি এলাকা থেকে ১৪ ডলার নির্ধারিত রয়েছে।

দুই-তিন মাস আগেও ভুটানের পাথর বাংলাদেশে বিক্রি হতো প্রতি টন দুই হাজার ৩শ’ টাকা থেকে দুই হাজার ৪শ’ টাকায়। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭শ’ থেকে দুই হাজার ৭৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব পাথর ভেঙে বাজারজাত করতে অতিরিক্ত শ্রম, মেশিন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় কাক্সিক্ষত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ব্যবসায়ী ধীরে ধীরে এই বন্দরমুখী ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

বুড়িমারী স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আফিসার রহমান জানান, ভারতীয় পাথরের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের কাজের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভুটান থেকে প্রতিদিন ২‘শ টির মতো ট্রাক পাথর নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মৌসুমি ফলও শুধু মৌসুমের সময় আসে।

শুধু পাথর সংকটই নয়; সিন্ডিকেট, জায়গা সংকট, মহাসড়কে চাঁদাবাজি এবং সড়কের বেহাল অবস্থার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাও বন্দরের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেসব পণ্য রপ্তানি হয়, তার মধ্যে কিছু পণ্য মাসে একবার কিংবা ১৫ দিন পরপর সীমিত আকারে পাঠানো হচ্ছে। এসব পণ্যের রপ্তানি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। ফলে চাহিদা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাস্টমস ও ক্লিয়ারিং-ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের সংগঠন সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ভারতের বিভিন্ন কোয়ারি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা আশা করছি, খুব শিগগির দুই দেশের মধ্যে পাথর বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক হবে।

ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমাদের রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯০ কোটিতে পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ ঝিমিয়ে পড়েছে বুড়িমারী স্থলবন্দর

শাকিবের নতুন সিনেমায় ইধিকা?

পাথর হতে পারে গলাতেও

গণভোটের রায় নিয়ে ১১ দলীয় জোটকে আশ্বস্ত করলেন স্পিকার

প্রাক্তনকে কেন সহজে ভুলতে পারে না মানুষ?

বর্ষায় চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে