ভিডিও শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ জুন, ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম

১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ 

পাবনায় এক বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক  নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত, পাবনায় এক বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক  নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

পাবনা জেলা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি ও চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে  অভিযুক্ত সাতজন শিক্ষককে তাদের গৃহীত বেতনভাতা বাবদ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৯১৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছেন নিরীক্ষা কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০২০ সালের ১২ মার্চ পরিদর্শন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক রাকিবুল হাসান। এরপর ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তিনি নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ সাতজন শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি সবার সামনে আসার পর চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মরত ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন এমপিওভুক্ত। যাদের মধ্যে সাতজনের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। নিয়োগ রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, মো. আনছার আলি ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে নিয়োগের সময় তার কাম্য যোগ্যতা প্রধান শিক্ষক পদে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল না। সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আয়নুল হক যোগদানকালে আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র দাখিল করেননি। সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) স্বপ্না রাণী পালের নিয়োগকালে কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ ছিল না। সহকারী শিক্ষক রোখসানা খাতুনের নিয়োগকালে কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কৃষি ডিপ্লোমা সনদ না থাকায় তার আবেদনপত্র বাতিলযোগ্য ছিল।

আরও পড়ুন

এছাড়াও, নীতিমালা মোতাবেক সহকারী শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মো. রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তার আবেদন বাতিলযোগ্য ছিল এবং মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত পরিপত্র মোতাবেক সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন না করায় তিনি বিএড’র দাবিতে উচ্চতর স্কেল পাবেন না বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একইভাবে সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) মুহাম্মদ আলির সনদটি গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নয়। সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) মো. হামিদুর রহমান শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ প্রদর্শন করতে পারেননি। এসব নানা অনিয়মে নিয়োগকৃত এসব শিক্ষককে তাদের বেতনভাতা বাবদ গ্রহণ করা ১ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৯১৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলি বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তার নিয়োগ ও বেতন হয়েছে। নিরীক্ষা অধিদপ্তর যে প্রতিবেদন করেছে সেটা সঠিক নয়। এসময় তৎকালীন নিয়োগ বোর্ডে দায়িত্বরতদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি। পেলে নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনায় এক বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক  নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস ও  ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৭ দিন ধরে আটকে আছে ৫ যুবক

১৪ বছরেও সংস্কার হয়নি সারিয়াকান্দির ‘মহিলা বাঁধ’, এলাকাবাসীর ভোগান্তি

সাংবাদিক রেজানুরকে গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

অবশেষে কাজী রাজুর স্বপ্ন পূরণ