ভিডিও শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ জুন, ২০২৬ ০৮:৫৫ পিএম

নেপথ্যে এক যুগের মামলা জটিলতা

বগুড়ায় ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকহীন ৮১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

বগুড়ায় ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকহীন ৮১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া জেলার ৮১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। অভিভাবকহীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান দিন দিন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলার ৮১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে পারছেন না।

জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে গাবতলী উপজেলায়। এই উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে আদমদীঘির ৫৯টি, কাহালুর ৬৪টি, দুপচাঁচিয়ার ২৪টি, ধুনটের ৯৮টি, নন্দীগ্রামের ৬২টি এবং বগুড়া সদর উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এছাড়া শিবগঞ্জের ৭৯টি, শেরপুরের ৭৩টি, সারিয়াকান্দির ৯৮টি, সোনাতলার ৭১টি এবং শাজাহানপুরের ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট ঝুলিয়ে রাখার পেছনে উঠে এসেছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এক আইনি জটিলতার খবর।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘মূলত ২০১৬ সাল থেকে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পর্যায়ক্রমে শূন্য হতে শুরু করেছে। প্রধান শিক্ষকের এই পদটিতে সাধারণত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি বা পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে প্রতি বছরই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।’ এই অচলাবস্থার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা শিক্ষা অফিসার আরও জানান, “গত ২০১৩-১৪ সালের দিকে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রটি) নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার কারণেই মূলত পদোন্নতি ও পদায়ন বন্ধ হয়ে যায়। দুঃখজনকভাবে, এরপর প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলাটির কোনো চূড়ান্ত শুনানি বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে আশার কথা হলো, কয়েক দিন আগে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই এই আইনি জটিলতা কেটে যাবে এবং শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, বছরের পর বছর এই গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় স্কুলগুলোর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। দ্রুত এই আইনি জট খুলে শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিৎ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকহীন ৮১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোহাম্মদ মামুন ফারুক এমটিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন

চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

দেশেই মেসি-রোনালদোর মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রী

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানঃ মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করার এক নিরলস অভিযাত্রা

ফিরবেন না পপি