১৪ বছরেও সংস্কার হয়নি সারিয়াকান্দির ‘মহিলা বাঁধ’, এলাকাবাসীর ভোগান্তি
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দির ‘মহিলা বাঁধ’ গত ১৪ বছরেও সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির একাধিক স্থানে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও এসব গর্তের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটারের বেশি। সড়কটি দিয়ে ৪ গ্রামের এবং ৫ টি বাজারের এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমন অবস্থায় সড়কটি দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের ৪ গ্রামের এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে, গত ২০১২ সালে, যমুনা নদীর শোনপঁচা নৌঘাট পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)। পুরো সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে চরাঞ্চলের নারী শ্রমিক। তাই এলাকাবাসী এ সড়কটির নামকরণ করেন "মহিলা বাঁধ"। সড়কটি নির্মাণের ৩ মাস পরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েকবছরে এ সড়কটি এ ধরণের বন্যায় প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার এ সড়কটি গত কয়েকবছর আগের যমুনা নদীর ভাঙনে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক নদীগর্ভে চলে যায়। বাকি ২ কিলোমিটার সড়কে বেশকিছু বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কোথাও এসব গর্তের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটারেরও বেশি হয়েছে। ফলে সড়কটি দিয়ে শোনপচা, ইদুর মারা, নান্দিনার চর, শুক নগরী গ্রামের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নানা ধরণের দুর্ভোগের শিকার হয়ে চলাচল করছেন। সড়কটি দিয়ে প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলি জমির নানা ধরণের ফসল কৃষকরা পরিবহন করতেন। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সড়কটি দিয়ে এসব গ্রামের ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হয়ে চলাচল করছেন। এছাড়া নান্দিনা বাজার, শোনপচা বাজার, ফ্লাড সেন্টার বাজার, ইদুর মারা বাজার এবং কড়িতলা বাজারসহ বেশকিছু বাজারে মালামাল সহজে পরিবহন করা যাচ্ছে না। নির্মাণের পর সড়কটির দুইপাশে গাছ লাগানো হয়েছিল, যা কয়েক বছরে বেশ বড় হয়েছে। এসব বিশালাকার গাছগুলোও গত কয়েকবছর আগে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেটে নিয়ে গেছেন। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চরবাসির চলাচলের পথ সুগম করা হোক।
আরও পড়ুনচর শোনপচা গ্রামের আয়েন উদ্দিন বলেন, গত কয়েকবছর আগেও আমাদের গ্রামের হাজারো গ্রামবাসী বাঁধটি দিয়ে বেশ অনায়াসে চলাচল করতেন এবং সকল ফসল পরিবহন করতেন। বাঁধটি সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। বিশেষ করে বন্যার সময় এ বাঁধের বড় গর্তগুলো নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। অতি দ্রুত সড়কটি মেরামত করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, বাঁধটির সংস্কারের জন্য এলাকাবাসীকে আবেদন করতে বলা হবে। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে, সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে, এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1781967260.jpg)
_medium_1781965074.jpg)

_medium_1781951981.jpg)

_medium_1781971908.jpg)
_medium_1781971401.jpg)