পাবনার ভাঙ্গুড়ায় শত বছরেও রাস্তা পাকা হয়নি জনদুর্ভোগে এলাকাবাসী
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া থেকে ময়দান দিঘী বাজার পর্যন্ত ৩ কিঃ মিঃ কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন চরম অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি হয়ে পড়ে কাদাময় ও চলাচলের অযোগ্য। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
ভুক্তভোগিরা জানায়, স্বাধীনতার ৫৫বছর পরেও রাস্তাটি পাকা করণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থী, রোগী ও বৃদ্ধরা। বেহাল এ সড়কটি পাবনার জেলার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এবং পর্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ত্রিমুখী সংযোগস্থলে অবস্থিত।
প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া, দুধবাড়িয়া, রমানাথপুর, রঘুনাথপুর পলাশপুর, দাসমরিচ, মাদারবাড়িয়া, সমাজ, শীতলাই, নিমাইচড়া, হান্ডিয়াল বাগমাড়া, বেদকান্দি, কালিয়াঞ্জিরি, সবদ্ধিমরিচ, কোমলমরিচ গ্রামের হাজারো মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। পাশেই চলনবিল এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কিন্তু কাঁচা রাস্তার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত ধান, পাট, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল নিয়ে সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
দুধবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা, ময়দানদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, বড়পুকুরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনদুধবাড়িয়া এম দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর জব্বার বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তায় চলাফেরা করা খুবই কঠিন। এমনকি এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভালো বিয়ের সম্বন্ধ আসলেও রাস্তার করুন দৃশ্য দেখে বিয়ের সমন্ধ ভেঙে যায়। আমরা রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনে আবেদন-নিবেদন করছি। অর্ধশত বছরে কেউ কথা রাখেনি।
বড়পুকুড়িয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাস্টার বলেন, দিনের বেলায় কোন ভাবে যাওয়া-আসা করা গেলেও রাতে চলাচল করা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে গ্রাম থেকে শহরে যাযাতাত করতে হয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম বলেন, নতুন অর্থবছরে প্রকল্প আসলে রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ করা হবে।
উপজেলার প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি জনগুরুত্ব পূর্ণ হলেও এখনো উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আগামী অর্থবছরে প্রকল্প আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পেরেছি সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং জনদুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন







