ভিডিও শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৫ মে, ২০২৬, ১০:১১ রাত

বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর ভাঙনে ৬ গ্রাম হুমকীর মুখে, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর ভাঙনে ৬ গ্রাম হুমকীর মুখে, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় যমুন নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৬ গ্রাম হুমকীর মুখে পড়েছে। ভাঙন আতংকে নদী কূলীয় মানুষের চোখে ঘুম নেই। দ্রুত ভাঙন রোধে স্থানীয়দের উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নদীর তীরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। মানব বন্ধন কর্মসূচী থেকে ভাঙন রাধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অসময়ের পানির টান, দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের দাউদিয়ার পাড়া, মহব্বতের পাড়া, জন্তিয়ার পাড়া, খাবুলিয়া ও ভিকনের পাড়া গ্রামটি মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে। ইতোমধ্যেই নদীর তীব্র ভাঙনের কারনে শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়াও অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল যমুনার পেটে চলে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো পরিবারের। তাসের ঘরের মতো ভাঙছে বসতভিটা।

নদী ভাঙনরোধে স্থানীয়দের উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নদীর তীরে শত শত নারী পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামসুল হক, বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেদা আক্তার নয়ন তারা, ইউপি সদস্য জামিরুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আলহাজ¦ আব্দুস সামাদ বেপারী, আফতাব হোসেন, ওসমান গনি, এনামুল হক, আব্দুর রশিদ, আব্দুল হালিম লিটন প্রমুখ।

দাউদিয়ারপাড়া গ্রামের জরিনা বেওয়া (৭৫) বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে নদীর পাড় ধসে পড়ছে। কোনো কোনো জায়গায় মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাচ্ছেন না অনেকে। ভাঙনের শিকার স্থানীয় এক বাসিন্দা ওসমান গনি (৭০) কান্নজড়িত কন্ঠে বলেন, বাপ-দাদার আমলের জমিটুকু নদীতে চলে গেল। গত রাতেও যেখানে ঘর ছিল, আজ সেখানে শুধু পানি আর পানি। এখন পরিবার নিয়া কোথায় যাই, কী খই, আল্লাহ্  ছাড়া কেউ জানে না।

আরও পড়ুন

ছামিদন বেওয়া বলেন, যমুনার ভাঙনে তারা এ পর্যন্ত তিনবার বাড়ি বদল করেছেন। এবার যেটুকু মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল, তাও নদী গিলে খাচ্ছে। অসময়ে এই ভাঙন শুরু হওয়ায় তারা চরম অসহায় বোধ করছেন। শুধু ঘরবাড়িই নয়, যমুনার এই ভয়াবহ রূপের সামনে হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং গ্রামীণ হাটবাজার।

ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রাম। "ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ চাই" ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের কণ্ঠে এখন একটাই দাবি তারা কোনো সাময়িক ত্রাণ বা অনুদান চান না, তারা চান যমুনার বুকে একটি স্থায়ী শক্ত বাঁধ। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে মরিচ, পাট ও ধান চাষের জমি রক্ষা করা।

স্থানীয় তেকানীচুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ (বালির বস্তা) ফেলা না হলে নদী ভাঙন আরও ভয়বহ রূপ নিবে।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, নদী ভাঙন রোধে আমরা একটি প্রকল্প দাখিল করেছি। যেটি এখনও অনুমোদন পায়নি। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কিংবা বরাদ্দ দেয়া হলে নদী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর ভাঙনে ৬ গ্রাম হুমকীর মুখে, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নাটোরের লালপুরে একসাথে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে হারানো হাঁস খুঁজতে গিয়ে করতোয়ায় ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: শফিকুর রহমান

পাবনার সাঁথিয়ায় কুকুরের কামড়ে আহত ৭ চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন