বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বগুড়ার আদমদীঘিতে ৬শ বিঘা জমির ধান গাছ পানির নিচে, কৃষকরা দিশেহারা
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও নওগাঁর তুলসী গঙ্গা নদীর উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের রক্তদহ বিল এলাকার করজবাড়ি, দক্ষিণ গণিপুর, সান্দিড়া, বিশিয়া গ্রামসহ আশে পাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মাঠে প্রায় ৬শ’ বিঘা জমির উঠতি পাকা ইরি-বোরো ধান গাছ প্লাবিত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা ডুবে যাওয়া ধান গাছের শীষ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিপুল ক্ষতিসাধন হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
আদমদীঘি উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে ডুবে যাওয়া ধান ক্ষেতের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ফরমান আলী, ময়েন উদ্দিন, মাহফুজুল, জালাল উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ, মনছুর রহমান, ফজলুল হকসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, গত কয়েক দিনের হালকা বৃষ্টিপাত এবং আকষ্মিকভাবে উত্তরের নওগাঁর তুলসী গঙ্গা নদীর উজান থেকে ছাতনি হয়ে রক্তদহ বিল অভিমুখে নেমে আসা পানির ঢলে রক্তদহ বিল এলাকায় অবস্থিত করজবাড়ি, দক্ষিণ গণিপুর, সান্দিড়া, বিশিয়া গ্রামসহ আশে পাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মাঠে ৬ শতাধিকের অধিক বিঘা জমির উঠতি পাকা ইরিবোরো ধান গাছ প্লাবিত হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ যাবত ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
অনেক জমির ধান গাছ পুরোটায় পানি নিচে, আবার কোন জমির ধানের শুধু শীষ বের হয়ে আছে। বর্তমানে ডুবে থাকা ধানের শীষ কেটে ঘরে তোলার জন্য প্রতিটি শ্রমিককে মজুরি দিতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বিঘা। তবে ডুবে থাকা অধিকাংশ ধান কেটে নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এতে প্রায় ১৭ লক্ষাধিক টাকার আবাদের ক্ষতির আশাংকা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনধান কাটা শ্রমিক শহিদুল বাবলু মিযা জানান, প্রায় জমিতে হাঁটু ও কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে ধানের গাছের শুধু শীষ কাটতে হচ্ছে। এতে শ্রম বেশি ও পানিতে বিষক্রীয়া থাকায় শরীরের চুলকানি দেখা দিচ্ছে। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানায়, অল্প দিনের মধ্যে উজান থেকে আসা পানি নেমে গেলে আবাদের তেমন ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই। তবে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন







