যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষিত যুদ্ধাস্ত্রের বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে : সিএসআইএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে বড় ধরনের সংকটের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের তীব্রতায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। একদিকে যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি, অন্যদিকে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মজুতেও টান পড়ায় দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন চাপ। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনী তাদের সুরক্ষার মূল হাতিয়ার হিসেবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টর ইতিমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। যা দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। শুধু প্যাট্রিয়ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অতিউঁচুমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড বা টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স নিয়েও দেখা দিয়েছে একই পরিস্থিতি। এই ব্যবস্থারও অর্ধেকের বেশি ইন্টারসেপ্টর যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে গেছে। আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ ঠেকানোর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
পাশাপাশি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর মজুতেও টান পড়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক তথ্যমতে, এই বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। এছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের টমাহক মিসাইলের ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশ এবং এসএস-৩ ও এসএস-৬ মিসাইলের ২০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এসব অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র পুনরায় তৈরি করতে ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুনসামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের এই ব্যাপকতা মার্কিন বাহিনীর সংরক্ষিত যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







