ভিডিও শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০২ রাত

বগুড়া পৌর পার্কে শেষ হলো পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

বগুড়া পৌর পার্কে শেষ হলো পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার পৌর পার্কে ভাঙলো আনন্দের মেলা। আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বর্ণিল আয়োজন আর লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় যে প্রান্তর মুখোর ছিল, আজ থেকে সেখানে আর সুর উঠবে না আনন্দের। আবারও লোকজ বাংলা সংস্কৃতির এই আনন্দ পেতে অপেক্ষা করতে হবে একটি বছর।

সাংস্কৃতিক ফোরাম এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শহরের পৌর পার্কে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত জমে ওঠা এ মেলার আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ছিল শেষ দিন। ওইদিনই সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলার মাঠ ছিল মানুষের পদচারণায় সরগরম।

মেলায় ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, চারু-কারু পণ্য ও দেশীয় খাবারের বাহার। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিনের মতো শেষ দিনেও অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় হা-ডু-ডু খেলা, সকালে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের একক অভিনয় ও লোকনৃত্য প্রতিযোগিতা।

এদিন মেলা মঞ্চে পরিবেশিত হওয়া লোকগান ও নৃত্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, এমন আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক জানান, এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক এবং সার্বিকভাবে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন

পাঁচ দিনের প্রাণবন্ত আয়োজন শেষে রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসান উল তৈয়ব জাকির, বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী কেএম খায়রুল বাশার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র উপপরিচালক এসএম শামীম আক্তার, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৈশাখী মেলার সদস্য সচিব পলাশ খন্দকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল আলম।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়ায় এসে নানা উন্নয়ন কাজের ঘোষণা দেবেন। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়াকে সাংস্কৃতিক পল্লী হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করা হবে, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেডিও এবং টেলিভিশন কেন্দ্র সম্প্রচার শুরু হলে এ অঞ্চলের শিল্পীদের অধিকার সম্ভব হবে তাই বর্তমান সরকার এসকল বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং অচিরেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

আলোচনা সভার শেষে সম্মানীয় অতিথিবৃন্দ বৈশাখী মেলার পাঁচ দিনে অনুষ্ঠিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সকল আয়োজন শেষে একে একে নিভে যায় মঞ্চের সকল আলো। মেলা শেষ হলেও দর্শনার্থীদের মনে রয়ে গেল উৎসবের রঙিন স্মৃতি ও আগামী বছরের অপেক্ষা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া পৌর পার্কে শেষ হলো পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

এখনও সংগীত থেকে আয় করছেন মামদানি

চুল ও ত্বকের যত্নে পণ্য ঘরে তৈরি করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন মায়া

চন্দ্রিমাকে পথ দেখিয়েছে অনলাইন

সংসদে জুলাইয়ের নামে দলীয় সংকীর্ণতা প্রকাশের মহোৎসব চলছে : ফারজানা সিথি

বগুড়ায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পৃথক ফুটবল স্টেডিয়াম এখন সময়ের দাবি