ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংস্কারে তিন কোটি টাকা অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় অবস্থিত মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন ঐতিহাসিক 'মুসা খাঁ মসজিদ' সংস্কার ও সংরক্ষণে প্রায় তিন কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের 'অ্যাম্বাসেডর ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন' (এএফসিপি) প্রকল্পের আওতায় এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবছরের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত তিন বছরব্যাপী এ প্রকল্পের কাজ চলবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার। মুঘল আমলের এই সুউচ্চ প্ল্যাটফর্মের মসজিদের আদি নকশা এবং নির্মাণ উপকরণের সঠিকতা বজায় রেখে সংস্কার করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় মসজিদের একটি ফটোরিয়ালিস্টিক থ্রি-ডি মডেল তৈরি করা হবে।
আরও পড়ুনএছাড়া স্থাপত্য বিষয়ক নথিপত্র তৈরি এবং মসজিদের কাঠামোগত শক্তি বিশ্লেষণ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল সংলগ্ন এই মসজিদ এলাকায় পর্যটন কার্যক্রম উন্নত করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় মসজিদের সামনে এ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৭শ শতাব্দীর মুসা খান মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের এই উদ্যোগটি সত্যিই একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এবং আমি এর অংশ হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, আমাদের জাতির গর্ব ও সংগ্রামের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রাচীন নগর জনপদ থেকে শুরু করে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশ, এরপর সুলতানি ও মুঘল আমল, ঔপনিবেশিক যুগ এবং সবশেষে আমাদের আজকের স্বাধীন বর্তমান পর্যন্ত- আমাদের সভ্যতা হাজার হাজার বছর ব্যাপী বিস্তৃত। প্রতিটি সভ্যতা ও শাসন আমলের নিজস্ব ঐতিহ্যের স্থান রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় ও ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মুসা খাঁ মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যশৈলী এবং স্থানীয় রূপান্তরের এক অনন্য সংমিশ্রণকে ফুটিয়ে তোলে। ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্যে পরিণত করেছে, যা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে এ প্রকল্পটি একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যবাহী পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক





_medium_1774798648.jpg)


