পানিতে ডুবে গেলে যা করা বিপজ্জনক
পানি মানেই আনন্দ, কিন্তু কখনো কখনো তা ভয়ও বয়ে আনে। অনেকে সাঁতার না জানলেও পুকুর, নদী বা সমুদ্রে নামেন। সাঁতার না জানা ব্যক্তির জন্য এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয় বিপদের মাত্রা। এক মুহূর্তের অসাবধানতা বা ভুল সিদ্ধান্তের ফলে অপূরণীয় ক্ষতি ঘটতে পারে। তাই পানিতে নামার আগে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আর যদি পুকুরে বা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে কী করবেন-
আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা
পানি বা সমুদ্রে বিপদের মুখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা। ভয় পাওয়ার ফলে শরীর শক্ত হয়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয়, আর শক্তির দ্রুত ক্ষয় ঘটে। সাঁতার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। মাথা পানির ওপর রাখার জন্য অযথা হাত-পা না নড়াচড়া করা এবং পানির গতি অনুযায়ী ধীরে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।
সাঁতার না জানলে ভেসে থাকার চেষ্টা
সাঁতার না জানলে ভেসে থাকার চেষ্টা করুন। শরীরকে রিল্যাক্স রেখে পিঠের ওপর ভেসে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। দুই হাত ছড়িয়ে ও পা সামান্য নড়াচড়া করলে শরীর ভেসে থাকতে সাহায্য পায়। এতে মুখ পানির ওপরে থাকে, শ্বাস নেওয়া সহজ হয় এবং শক্তি কম ক্ষয় হয়।
ঢেউয়ের সঙ্গে সরাসরি লড়াই না করা
সমুদ্র বা নদীতে থাকলে ঢেউয়ের সঙ্গে সরাসরি লড়াই না করে তার সঙ্গে মানিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ঢেউ এলে শরীরকে ঢেউয়ের সঙ্গে ওঠানামা করতে দিন। সরাসরি তীরের দিকে না গিয়ে সামান্য আড়াআড়ি দিকে এগোলে অনেক সময় সহজে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো যায়। কাছাকাছি কোনো ভাসমান জিনিস থাকলে তা আঁকড়ে ধরুন। ছোট হলেও এটি কিছুক্ষণ ভেসে থাকার সুযোগ দেয় এবং উদ্ধারকারী দলকে সময় এনে দেয়।
সর্তকতা
ফুসফুসে পানি ঢুকে গেলে তা খুবই বিপজ্জনক। ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে দ্রুত পানি থেকে তুলে সমতল জায়গায় শুয়ে দিন। শ্বাস না নিলে সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) শুরু করতে হবে। অর্থাৎ বুকের মাঝখানে চাপ দেওয়া এবং কৃত্রিম শ্বাসের ব্যবস্থা করা। যদি শ্বাস চলতে থাকে কিন্তু কাশি, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাশ শুয়ে পাশ ফিরিয়ে দিন যাতে মুখের পানি বেরিয়ে আসে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
একা পানি নামা এড়িয়ে চলা। গভীর পানি বা সমুদ্রে গেলে সাঁতার জানলেও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা। পাশাপাশি আশেপাশে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড আছে কি না তা দেখে নিন। ছোট সচেতনতা এবং সঠিক প্রস্তুতিই অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
পানির আকর্ষণ মানুষকে টানে, কিন্তু সেই টানেই লুকিয়ে থাকে বিপদ। সচেতনতা, সামান্য প্রস্তুতি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনের রক্ষাকবচ হতে পারে।
সূত্র: ওয়েবএমডি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
মন্তব্য করুন









