স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হচ্ছেন বশির আহমেদ, অশ্রুসিক্ত হোমায়রা-রাজা
অভি মঈনুদ্দীন ঃ সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রয়াত বরেণ্য সংগীতশিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক বশির আহমেদ (মরণোত্তর)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবির সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বশির আহমেদ ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর ১২ বছর পর হলেও তাকে মরনোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করায় তার দুই সন্তান দুই সঙ্গীতশিল্পী হোমায়রা বশির ও রাজা বশির ভীষণ আবেগাপ্লুত, উচ্ছ্বসিত। মুত্যুর পরও তার বাবাকে এমন সম্মাননায় ভূষিত করায় বশির আহমেদ’র পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। যদিও বশির আহমেদ’র স্ত্রীও আজ বেঁচে নেই। তবে বশির আহমেদ বেঁচে আছেন তার দুই সন্তান হোমায়রা ও রাজার মাঝে।
বাবার এমন সম্মাননাপ্রাপ্তিতে হোমায়রা ও রাজা বলেন,‘ এই স্বাধীনতা পুরস্কার বাবার একার অর্জন নয়। এটি তাঁর অসংখ্য শ্রোতা-দর্শক, শিল্পীসহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী , সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের ভালোবাসার সম্মিলিত স্বীকৃতি। এই স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তি আমরা বাবার পক্ষ থেকে আমাদের মা শিল্পী মীনা বশির ও বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। যাদের ভালোবাসাই তাঁকে চিরঞ্জীব করে রেখেছে। বাবার কণ্ঠ, বাবার সুর, বাবার আদর্শ ও বাবার শিক্ষা আজও আমাদের প্রতিদিন পথ দেখায়। এই সম্মান আমাদের জন্য একদিকে যেমন গর্বের, তেমনি অন্যদিকে অশ্রুসিক্ত এক অনুভূতি। কারণ এই আনন্দের দিনে আমরা বাবার স্নেহময় হাসি, তাঁর শান্ত দৃষ্টি আর সেই পরিচিত কণ্ঠস্বরটিকে খুব করে অনুভব করছি। এই আনন্দঘন অথচ বেদনাময় মুহূর্তে আমরা সবার কাছে দোয়া চাই আল্লাহ যেন আমাদের বাবা ও মাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।’
আরও পড়ুনহোমায়রা ও রাজা ছাড়া ওসবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জামাতা মোঃ মাসুদ ইকবাল, পুত্রবধূ নাসরিন রুনা ও নাতী সারগাম। বশির আহমেদ-এর কন্ঠে জনপ্রিয় বাংলা গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘ এই বৈশাখে লেখা প্রেমের চিঠি’,‘ পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’,‘ খুঁজে খুঁজে জনম গেলো’,‘ ডেকো না আমারে তুমি’,‘ আমার খাতার প্রতি পাতায়’,‘ চন্দ্র তারার নিচে খুঁজেছি তোমায়’, ‘ সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা’,‘ যারে যাবি যদি যা ’, ‘ মানুষের গান আমি শুনিয়ে যাব’,‘ ওগো প্রিয়তমা ওরা জানতে চেয়েছে’ ইত্যাদি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1772799780.jpg)
_medium_1772799416.jpg)
_medium_1772795696.jpg)

_medium_1772788342.jpg)


