ভিডিও মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৪৩ রাত

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী হলেন আরিফুল হক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার ২৩ বছর পর সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে তিনি দুই দফা সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র নির্বাচিত হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে প্রার্থী হন আরিফুল। শেষ সময়ে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে বড় ব্যবধানে জয় এনে দেন দলকে। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১টি।

এই ভূমিধস জয়ের পর তিনি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

আরিফুল হক চৌধুরী ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সবার মনোযোগ কাড়েন।

সে সময় তিনি নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান। এর ফলে সিলেটের রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকারের পতনের পর ‘ওয়ান-ইলেভেন’ প্রেক্ষাপটে তিনি কারাবরণ করেন। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে পরে আবারও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বিপরীতে প্রার্থী হন আরিফুল। সিসিকের প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র ও একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় পৌর ও সিটি মেয়র কামরানকে পরাজিত করে তিনি আলোচনায় আসেন এবং সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তী নির্বাচনেও কামরানকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সিসিক মেয়র হন তিনি।

২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মেয়র পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

আরও পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলের মনোনয়ন চান আরিফুল হক চৌধুরী। দল এই আসনে না দিলে তিনি অন্য কোনো আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে গত ৫ নভেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। একেবারে সবার শেষে মাঠে নেমে আরিফুল সিলেটে জামায়াতের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদীয় ভোটের মাঠেও চমক দেখান।

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সফিকুল হক চৌধুরী ও মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল হক ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এরপর সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনিপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়কসহ সিলেটের নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রী পদে তাঁকে মনোনীত করায় দল ও দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী হলেন আরিফুল হক

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জের দুই এমপি

কাল ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গাঁজাসহ ২ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, বুধবার থেকে রোজা শুরু