সাবেক সচিব আব্দুল বারী এমপি হয়েই হলেন মন্ত্রী
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : আব্দুল বারী ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলের ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে।
ছাত্র জীবন শেষে বিসিএস হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যুক্ত হন তিনি। চাকরিরত অবস্থায় তিনি মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি (এনএনপি) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব থাকা অবস্থায় ২০০৭ সালের ৩১ মার্চ ওএসডি করে তাকে অফিসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বিভিন্নভাবে হয়রানি ও সামরিক কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন টিম কতৃক জিজ্ঞাসাবাদ,বিএনপির এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়ায় মিথ্যা অভিযোগে দুর্নীতির মামলা দেয়াও হয়।
২০১০ সালের উত্তরা ষড়যন্ত্র মামলা ও মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়। ওএসডি থেকে ২০১৪ সালে পিআরএল এবং ২০১৫ সালে পূর্ণ অবসরে চলে যান তিনি। অন্তর্বতী সরকার তার সকল মামলা প্রত্যাহার করে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আর্থিক সুযোগ-সুবিধাসহ সরকারের সচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেন। এসবের বিবেচনা করে বিএনপি তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে তাকে প্রার্থী মনোনীত করেন।
তবে খুব বেশি সময় নেননি। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই এই আসনে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ নামে পরিচিত। এমপি হয়েই হলেন তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করার মাত্র ৬ ঘন্টার ব্যবধানে তিনিই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন।
জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলার শেষ সীমানা মাত্রাই ইউনিয়নের বলিশিব সমুদ্র গ্রামে তার জন্ম। প্রশাসনে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাঠ প্রশাসন থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় দুই ক্ষেত্রেই আছে তার অভিজ্ঞতা। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি অবসরে আসেন।
আরও পড়ুনআবদুল বারী অবসরের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও গত এক বছরে এলাকায় নিয়মিত সময় দিতে শুরু করেন। এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তা-কালভার্ট নির্মাণ, বিশেষ করে গত আলু মৌসুমে কৃষকের সার সংকটের সমাধান এবং সামাজিক সংগঠনের নানা আয়োজনে উপস্থিতি তাকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করে তোলে।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি সাংগঠনিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তরুণ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা সমন্বয় টিম গঠন, ইউনিয়নভিত্তিক মতবিনিময় সভা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ এসব কৌশল তাকে এগিয়ে রাখে।
প্রচারণায় বড় মিছিলের বদলে ছোট ছোট উঠান বৈঠক ও ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় জোর দেন আবদুল বারী। এতে গ্রামীণ ভোটারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয় তার। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি, শহর এলাকাতেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল পান।
কালাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন মন্ডল বলেন, ‘নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তিনি সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। আমরা গর্বিত।’
সদ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জয়পুরহাট জেলা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।’
মন্তব্য করুন



_medium_1771337320.jpg)




