শুধু স্বাদ নয়, প্রদাহও কমায় যে ১১ ধরনের চা
শরীরের ভেতরে দীর্ঘদিনের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপায়ে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিছু ভেষজ ও পাতার চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল জাতীয় উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ কমাতে সহায়ক এমন ১১ ধরনের চা সম্পর্কে-
গ্রিন টি
গ্রিন টি ক্যাটেচিন নামের পলিফেনলে ভরপুর, যা শক্তিশালী প্রদাহনাশক হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ইপিগ্যালোক্যাটেচিন-৩, গ্যালেট (ইজিসিজি)। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
আদা চা
আদা চায়ে থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল নামের ফেনলিক যৌগ প্রদাহজনিত প্রোটিন যেমন টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর-আলফা এবং ইন্টারলিউকিন-৬ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ও লিউকোট্রিন উৎপাদন বাধা দেয়, যা প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে জড়িত।
রোজহিপ চা
গোলাপ ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে ছোট ফল তৈরি হয়, তা থেকেই তৈরি হয় রোজহিপ চা। এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও ই, ফেনলিক যৌগ, ক্যারোটিনয়েড এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমাতে ও শরীরকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
মৌরি চা
মৌরি বীজ গুঁড়ো বা ভেঙে তৈরি করা হয় মৌরি চা। এতে থাকা ফেনলিক অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
হলুদ চা
হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন প্রদাহনাশক হিসেবে বহুল পরিচিত। হলুদ চা নিয়মিত পান করলে শরীরের প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হতে পারে।
জবা ফুলের চা
গাঢ় লাল রঙের জবা ফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি এই চা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে থাকা পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্থোসায়ানিন প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
উলং চা
ক্যামেলিয়া সিনেনসিস গাছের পাতা থেকে তৈরি উলং চা চীনের ঐতিহ্যবাহী পানীয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভারসাম্য রাখতে এবং কোষের চাপ কমিয়ে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
পুদিনা চা
পুদিনা চা তার প্রদাহনাশক ও জীবাণুনাশক গুণের জন্য পরিচিত। এতে থাকা মেনথল, রোজমেরিনিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ফাইটো-কেমিক্যাল শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
দারুচিনি চা
দারুচিনি চায়ে রয়েছে কেম্ফেরল, কুয়েরসেটিন, সিনামিক অ্যাসিড ও সিনাম্যালডিহাইডের মতো উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য অনেক মসলার তুলনায় দারুচিনিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি।
রুইবোস চা
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ভেষজ চা পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডে সমৃদ্ধ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রুইবোস চা পান দীর্ঘমেয়াদি হালকা প্রদাহজনিত স্থূলতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
ক্যামোমাইল চা
ডেইজি ও সূর্যমুখী পরিবারের এই ভেষজ উদ্ভিদে থাকা অ্যাপিজেনিন ও ফেরুলিক অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন দমন করতে সাহায্য করে। ক্যামোমাইল চা ব্যথা উপশম ও শরীরকে শান্ত রাখতেও কার্যকর।
প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত এসব চা পান উপকারী হতে পারে। তবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ভেষজ চা অভ্যাসে যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ
মন্তব্য করুন









