ভিডিও মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:২৭ রাত

এপস্টেইন ফাইল কী, কেন এত তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত, এপস্টেইন ফাইল কী, কেন এত তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্কগোটা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘এপস্টেইন ফাইল’। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত লাখ লাখ পাতা, পৌনে দুই লাখের বেশি ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও প্রকাশের পর গোটা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষের চোখ কপালে উঠছে। 

এসব ফাইলে মিলছে বিকৃত যৌন অপরাধের রোমহর্ষক নানা কাহিনি। এতে দুনিয়ার বড় বড় ধনকুবের, ক্ষমতাধর ও সেলিব্রিটিরাও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

যদিও অনেক অভিযুক্ত এ ধরনের অভিযোগ ‘আজগুবি ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এপস্টেইন ফাইল
জেফরি এপস্টেইন নামে এক যৌন অপরাধী সংক্রান্ত নথিই ‘এপস্টেইন ফাইল’ নামে পরিচিত হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে যৌন অপরাধের এক বিশাল চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। 

২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৮ বছরের কম বয়সী একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার চেষ্টার অভিযোগে এপস্টেইনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

যৌনপণ্য পাচারের মামলায় বিচারাধীন থাকাকালে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তবে কর্তৃপক্ষ সেটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে, যা নিয়েও রহস্যের শেষ নেই। 

 

গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রকাশ করে। যেখানে ছিল এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ত্রিশ লাখ পাতা, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও।

এই নথিগুলোর মধ্যে আছে জেফরি এপস্টেইনের কারাগারের থাকার সময়ের বিস্তারিত তথ্য, যার মধ্যে তার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট ও জেলে থাকার সময়ে মৃত্যুর তথ্যও আছে।

এছাড়া এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের নথিও আছে এর মধ্যে। ম্যাক্সওয়েলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সাহায্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

প্রকাশিত নথিপত্রের মধ্যে এপস্টেইন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আদান-প্রদান করা ই-মেইলও রয়েছে। যেখানে ধর্ষণসহ বিকৃত যৌন অপরাধ, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

যাদের নাম এসেছে
নতুন প্রকাশ করা নথিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ওয়াকার বুশের নাম পর্যন্ত আছে। আছে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বিল গেটস, ধনকুবের ইলন মাস্ক, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বেশ ক্ষমতাধরদের নামও। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও আছে নথিতে। এছাড়া ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে।

আরও পড়ুন

এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শত বার। ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। তবে তিনি বলেছেন, সেটি চুকে গেছে বহু বছর আগেই এবং তার যৌন অপরাধ বিষয়েও তার কিছু জানা ছিলো না বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

নথিতে অভিযোগ, রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তার একজন মুখপাত্র এই অভিযোগকে ‘একেবারেই হাস্যকর এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে নথিতে নাম আসার পর যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। অবশ্য তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

নথিতে এপস্টেইনের নামে  ইমেইলে মোদীর ২০১৭ সালের ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় সফরের প্রসঙ্গ রয়েছে, যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর।

ইমেইলটিতে বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করা হয়: “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি (এপস্টেইনের) পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সুবিধার্থে ইসরায়েলে নাচ ও গান করেন। তারা কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা করেছিলেন। এতে কাজ হয়েছে।”

অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্যটিকে ‘একজন দণ্ডিত অপরাধীর নোংরা চিন্তাভাবনা’ বলে অভিহিত করেন, যা ‘চরম অবজ্ঞার যোগ্য’।

তিনি আরও বলেন, মোদি ও এপস্টেইনের মধ্যে কোনো অর্থবহ যোগাযোগ বা পরামর্শমূলক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ নেই।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এপস্টেইন ফাইল কী, কেন এত তোলপাড়

রিয়াল মাদ্রিদের ‘মিনি হাসপাতালে’ বেলিংহাম

৫ আগস্টের পর কারও নামে মামলা দেইনি: নুরুল হক নুর

পবিত্র শবে বরাত আজ

হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনি ব্যানারে আগুন

শেখ হাসিনাকে ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত : দ্য উইককে মির্জা ফখরুল