দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অবরুদ্ধ মাদ্রাসা শিক্ষককে উদ্ধার করলো প্রশাসন
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হককে (৫২) প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবি’র সহযোগিতায় অভিযুক্ত শিক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ধাওয়া মাঝিয়ান এলাকার তালিমুল কোরআন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করা হয় এবং এর আগে ওই দিন রাত ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে নতুন কমিটি গঠনের পর শিক্ষকরা কমিটির পক্ষে ও বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত শিক্ষক তোজাম্মেল হক ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতেন। এর আগে আরবি শিক্ষক মাওলানা ফিরোজ হোসেনের নিয়ম অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন মাওলানা ফিরোজ হোসেন কয়েকজন ছাত্রকে উসকানি দিলে তারা ১০-১২ জন মিলে একের পর এক তোজাম্মেল হককে পড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিরক্ত হয়ে তোজাম্মেল হক মাদ্রাসার ৫-৬ জন ছাত্রকে বেত দিয়ে আঘাত করেন। পরে মাওলানা ফিরোজ হোসেন ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে ছাত্রদের অভিভাবকদের জানালে তারা মাদ্রাসায় এসে উত্তেজিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক তোজাম্মেল হক মাদ্রাসার একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেন। মাদ্রাসার বাইরে একপর্যায়ে প্রায় ২০০-২৫০ জন উত্তেজিত জনতা শিক্ষককে বিচার করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
আরও পড়ুনএ বিষয়ে আরবি শিক্ষক মাওলানা ফিরোজ হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। গণিত পরীক্ষা থাকায় ছাত্ররা শিক্ষক তোজাম্মেলকে বিরক্ত করছিল। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে ৫/৬ জনকে মারধর করেন। তবে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে কি না জানা নেই। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ইউএনও’র উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবিনা তানজিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।
মন্তব্য করুন









