মিয়ানমারে নির্বাচনে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় নিহত ১৭০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সমর্থিত বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালীন দেশটির বিমান বাহিনীর ভয়াবহ অভিযানে অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে সামরিক সরকার।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় চলা এই নির্বাচনের সময়কালে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০৮টি ছোট-বড় বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এই হামলায় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কয়েকজন প্রার্থীরও মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনকে সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত গণনায় জান্তা সমর্থিত দল ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। তবে দেশের ১২১টি আসনে ভোট গ্রহণের কোনো পরিবেশ না থাকায় সেসব এলাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের মিয়ানমার শাখার প্রধান জেমস রোডেহ্যাভের জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই বিমান অভিযান ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত একটানা অব্যাহত ছিল। মূলত বিরোধী কণ্ঠরোধ এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ভীতি প্রদর্শন করতেই এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে সেনাবাহিনী। এই সামরিক অভিযানের ফলে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনবর্তমানে মিয়ানমারের এই একতরফা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পাওয়ার এই চেষ্টা বিশ্বজুড়ে মিয়ানমার জান্তাকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে বিমান হামলায় এত বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি মিয়ানমারের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে। জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এই জয়কে স্বাগত জানানো হলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








