পান চাষে বদলে যাওয়া রংপুর গঙ্গাচড়ার আলদাদপুরের জীবনচিত্র
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ভোরের আলো ফোটার আগেই আলদাদপুর গ্রামে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। শিশির ভেজা পানের পাতায় হাত বুলিয়ে কৃষকেরা নামেন বরজে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকে তাদের ঘাম, আশা আর আগামী দিনের স্বপ্ন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের এই গ্রামটি আজ আর শুধু একটি জনপদ নয় এটি সম্ভাবনার নাম, পরিশ্রমের নাম, আর পান চাষে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প।
এক সময়ের সাধারণ গ্রাম আলদাদপুর এখন আশপাশের মানুষের কাছে পরিচিত ‘পানের গ্রাম’ হিসেবে। গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি পান বরজ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের আঙিনার পাশে কিংবা কাছের জমিতে রয়েছে পান চাষ।
এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা সবকিছুর সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পান। পান চাষ আলদাদপুরে শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি একটি ঐতিহ্যও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই চাষের অভিজ্ঞতা জমেছে মানুষের হাতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়া উপজেলায় মোট ১০ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে, যার বড় অংশই আলদাদপুর গ্রামে। চাষিরা জানান, এ এলাকার মাটি ও পরিবেশ পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। জৈব সার, খৈল ও অল্প পরিমাণ ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়। তবে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের কারণে নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি।
আরও পড়ুনপান চাষি পরেশ রায় (৫০) বলেন, পান চাষ আমাদের বংশের পেশা। গত বছর ২০ শতক জমিতে পান করেছি। দুই বছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা, আর বিক্রি করে পেয়েছি প্রায় ৪ লাখ টাকা। এই পানই আমাদের জীবন চালাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, আলদাদপুর গ্রামের মাটি ও জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকেরা অভিজ্ঞতার সাথে চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত হলে পান চাষ থেকে আরও বেশি লাভ করা সম্ভব। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন



_medium_1769341520.jpg)
_medium_1769340559.jpg)
_medium_1769340208.jpg)
_medium_1769339158.jpg)


_medium_1769344560.jpg)