উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার : জমি প্রস্তুত, সেচ, বীজ বপণ, চারা রোপণসহ সার, কীটনাশক-ফসল ফলানোর প্রতিটি ধাপেই আগের চেয়ে বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে কৃষককে। বেশি খরচ আর বাড়তি পরিচর্যার পর ফসল বিক্রির সময় সেই টাকা উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উৎপাদন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ায় মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪১ মেট্রিকটন রবি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, উৎপাদিত রবি ফসলের সম্ভাব্য বাজার মূল্য দাঁড়াবে ৭ হাজার ২৪২ কোটি ৩৮ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকা। গত বছর প্রতি কেজি সবজির গড় উৎপাদন খরচ ধরা ছিল ২০ টাকা, তবে এবার তা বেড়েছে। এছাড়াও চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ৩৩ দশমিক ৯২ টাকা ধরা হলেও এবার তা পড়ছে ৩৪ টাকা।
এদিকে, বগুড়ার মাঠজুড়ে সবুজ ফসলের সমারোহ। কোথাও চারা রোপণ, কোথাও সেচ আবার কোথাও ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। পাশাপাশি মাঠজুড়ে চলছে আমন ধান কাটার প্রস্তুতি। এখন পর্যন্ত ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু সোনালী আমন ধান আর এই সবুজের আড়ালেই জমছে দুশ্চিন্তা। ফসল ঘরে তুলে উৎপাদনের খরচ উঠবে তো? সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দামের সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি এবং সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বগুড়ার কৃষকদের জন্য সেই হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ফসলের বিক্রিমূল্য। অসাধু চক্রের দৌড়াত্মে প্রয়োজনের সময় সার পাওয়া নিয়েও মাঝে মাঝে তৈরি হয় সংকট। ফলে বাম্পার ফলন হলেও মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত লাভের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা।
বগুড়া সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের শেখ ইমান আলী বলেন, জমি চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার ও কীটনাশক; সবকিছুতেই আগের চেয়ে বেশি খরচ পড়ছে। এত খরচ করে ফসল ফলানোর পর ভালো দাম না পেলে হাতে আর কিছুই থাকে না। এবার বৈরি আবহাওয়াতে আমনেও বাড়তি সেচ দিতে হয়েছে।
আরও পড়ুনআরেক কৃষক তরুণ মন্ডল বলেন, বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে কৃষিতে স্থায়ী শ্রমিকের সংকট চলছে। সময়মতো যেমন শ্রমিক পাওয়া যায় না তেমনি শ্রমিকের বাড়তি মজুরিও ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরও দিনমজুর হিসেবে একজন শ্রমিককে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দিলেই হতো, এবার তা ৮০০ টাকায় উঠেছে।
সেচের খরচও কৃষকের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে উঠেছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেই খরচও যোগ হচ্ছে উৎপাদন ব্যয়ে। জমির ফসল ধরে রাখতে সেচ চালু রাখার প্রয়োজন হলেও বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় যে হারে বাড়ছে, ফসলের দাম সেভাবে বাড়ছে না। এতে মৌসুম শেষে লাভের অংশ কমে যাচ্ছে। অনেকের জন্য উৎপাদনের খরচ তুলে হিসাব মেলানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিকাজে টিকে থাকা আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা তাদের। পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলে কীটনাশক খরচও বেড়েছে। আবার নকল, ভেজাল ওষুধের ফাঁদে পড়ে তাদের সর্বস্বান্ত হতে হয়।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, নানা কারণেই গত বছরের তুলনায় ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়তি দামের নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না। কারণ, ফসলের দাম নির্ভর করে উৎপাদন ও সরবরাহে ওপর। তিনি বলেন, কৃষক যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য বাজার তদারকি কার্যক্রম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম বন্ধ এবং ভুর্তিকির পরিধি নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।
মন্তব্য করুন

_medium_1790151977.jpg)
_medium_1787633281.jpg)
_medium_1787204498.jpg)
_medium_1786943004.jpg)

_medium_1785560653.jpg)
_medium_1793871029.jpg)
_medium_1793890620.jpg)
